‘জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানোর পর পরের টার্গেট আপনারা!’ রামলীলা ময়দান থেকে মোদী-শাহকে সরাসরি চরম হুঁশিয়ারি রাহুলের!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা সমাবেশ থেকে কেন্দ্র সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবারের এই বিশাল সমাবেশ থেকে রাহুল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে ‘দেশদ্রোহিতা’র অভিযোগে সোজা জেলে পাঠানো হবে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
‘মোদী কোথাও যেতে পারবেন না, আমরা যেতে দেব না!’
এদিনের সমাবেশে উপচে পড়া বিপুল জনসমুদ্রের ভূয়সী প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী বলেন, এই বিশাল জনসমাগম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে এক স্পষ্ট ও শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি নিশানা করে তিনি আরও বলেন:
“অমিত শাহজি বলেছেন যে, নরেন্দ্র মোদি কোথাও যাচ্ছেন না। আমি আপনাদের আজ স্পষ্ট করে বলছি, নরেন্দ্র মোদি চাইলেও কোথাও যেতে পারবেন না; তিনি যেতে চাইলেও আমরা তাঁকে যেতে দেব না!”
‘জ্ঞানেশ কুমারের পর এবার আপনাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা!’
‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করার পর তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য হবেন খোদ দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।
-
আইনি খাঁড়া: রাহুল হুংকার দিয়ে জানান, “নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ, এটা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে রাখুন—জ্ঞানেশ কুমারের পর এবার আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেব। আপনারা যে ‘ভোট চুরি’ করেছেন, তার প্রতিটি হিসেব ও আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি আপনাদের হতেই হবে।”
-
ধর্ম ও সংবিধানের লড়াই: নিজেকে নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি তাঁকে তাঁর ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে তাঁর এক এবং একমাত্র উত্তর হবে—দেশের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরাই তাঁর ধর্ম।
‘আপনাদের হাতে যতই ক্ষমতা থাক, আপনারা সংবিধানের চেয়ে বড় নন!’
এদিনের এই মেগা সমাবেশ থেকে রাহুল দাবি করেন, রামলীলা ময়দানের এই জমায়েত কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট কোনো নেতার কণ্ঠস্বর নয়; এটি এ দেশের কোটি কোটি তরুণ, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ক্ষোভ ও অধিকারের আওয়াজ।
সরকারকে একহাত নিয়ে তাঁর সাফ বার্তা—“আপনাদের হাতে যতই পুলিশি ক্ষমতা বা টাকার জোর থাকুক না কেন, আপনারা কখনোই এই দেশের সংবিধানের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে পারবেন না। আমরা কোনোভাবেই ভারতে গণতন্ত্র ও সংবিধানকে ধ্বংস হতে দেব না।”
দিল্লির মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণাত্মক ও সুনির্দিষ্ট হুঙ্কার জাতীয় রাজনীতির পারদকে একলাফে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।