‘ক্লাবে এলেন বিধায়ক, এসেই দেখলেন চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার!’ ১২৭ বছরের পুরনো ক্লাবে বিজয়া সারতে গিয়ে যা ঘটল, শুনলে চমকে যাবেন!

বিজয়া সম্মিলনীর নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে একেবারে নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী হলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। ১২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব প্রাঙ্গণে এসে তিনি দেখলেন—চারিপাশে কেউ কোথাও নেই, আর আক্ষরিক অর্থেই বিশাল ক্লাবে ঝুলছে কড়া তালা!
শেষ পর্যন্ত ক্লাবের ভেতরে ঢুকতে না পেরে, বন্ধ গেটের বাইরের মাঠে খেলাধুলা করতে আসা ছোট ছোট কচিকাঁচাদের সঙ্গেই বিজয়ার সৌজন্য সেরে শূন্যহাতে ফিরতে হয়েছে বিধায়ককে। এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং তৃণমূল ও দলেরই একাংশ নেতার মিলিত ষড়যন্ত্র বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রত্না দেবনাথ।
কী ঘটেছিল পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবে?
দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন প্রান্তে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হচ্ছে। সেইমতোই পানিহাটি বিধানসভার ঐতিহ্যবাহী পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবে একটি বিজয়া সম্মিলনীর ব্যবস্থা করেছিলেন খোদ বিধায়ক রত্না দেবনাথ এবং ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
কিন্তু নির্ধারিত দিনে ক্লাবে পৌঁছে তাঁর চোখ কপালে ওঠে:
-
তালাবন্ধ ক্লাব: ১২৭ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক ক্লাবের মূল ফটক সম্পূর্ণ তালাবন্ধ ছিল।
-
অন্ধকারে মোড়া প্রাঙ্গণ: ক্লাবের ভেতরে কোনো আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয়নি। পরে স্থানীয় মানুষজন এসে লাঠির সাহায্যে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে কোনোমতে লাইট জ্বালানোর ব্যবস্থা করেন।
-
পদত্যাগপত্র জমা: সূত্রের খবর, ক্লাবের সম্পাদক রাজর্ষি বল গত ৩০ অক্টোবরই নিজের পদত্যাগপত্র বিধায়কের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে এই মুহূর্তে ক্লাবটিতে কোনো সক্রিয় পরিচালন সমিতি বা কমিটি নেই।
ছোটদের সঙ্গেই বাইরে দাঁড়িয়ে বিজয়া সারলেন বিধায়ক
ক্লাবের ভেতরে প্রবেশাধিকার না মিললেও দমে যাননি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। উল্টে ক্লাবের বাইরে মাঠের ধুলোবালিতে দাঁড়িয়েই সেখানে খেলতে আসা কচিকাঁচাদের মিষ্টি খাইয়ে এবং কোলাকুলি করে বিজয়া সেরে নেন তিনি।
ঘটনার পরই সংবাদমাধ্যমের সামনে ফুঁসে উঠে রত্না দেবনাথ বলেন, “আজ এখানে বিজয়া সম্মিলনী হওয়ার কথা ছিল। এসে দেখি ক্লাব সম্পূর্ণ তালাবন্ধ এবং অন্ধকার করে রাখা হয়েছে। আমাকে আটকানোর যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, এভাবে তা সম্ভব নয়। এই ক্লাবের সঙ্গে আমার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ ও উন্নয়ন জড়িয়ে রয়েছে।”
তৃণমূলের পাশাপাশি দলের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ!
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পানিহাটি ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও একবার তীব্রভাবে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিধায়কের সরাসরি অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে যেমন শাসকদল তৃণমূলের হাত রয়েছে, তেমনই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে বিজেপিরই কিছু ঘরের শত্রুদের।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এই ক্লাবের যিনি সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি তো গতকালই আমার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এসেছেন। কেউ আমাকে হেনস্থা করতে পারবে না। আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হব এবং প্রশাসনের সহযোগিতাতেই ক্লাবের ভেতরে ঢুকে এর সংস্কার ও উন্নয়ন করব।”
কী বলছে ক্লাব ও স্থানীয় মহল?
এদিকে এই গোটা ঘটনায় ক্লাবের বিদায়ী পরিচালন সমিতির সদস্য চিন্ময় মণ্ডল নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন। তাঁর বাড়ি ক্লাবের ঠিক সামনেই হওয়ায় তাঁকে সবসময় অনুষ্ঠানে থাকতে বলা হয়। তবে ক্লাব বন্ধ থাকা এবং চাবি কোথায় আছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই নেই বলে তিনি দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, এই ১২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাব থেকেই খেলা শিখে ভারতের জার্সি গায়ে অলিম্পিক ফুটবলে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন সনৎ শেঠ, ব্যোমকেশ বোসের মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা। সেই ঐতিহাসিক মাঠ ও ক্লাবের এমন অবক্ষয় এবং রাজনৈতিক কোন্দল ঘিরে এখন উত্তাল গোটা এলাকা।