‘জ্ঞানেশকাণ্ডে’ আগুন ফুটছে রাজধানীতে! দিল্লির রামলীলায় বিরোধীদের সুবিশাল হুঙ্কার, পাল্টা তোপ নাড্ডার!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে বর্তমানে অগ্নিগর্ভ জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট। ‘জ্ঞানেশকাণ্ড’ ইস্যুতে সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে যেমন দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে সুবিশাল মহাসমাবেশ ডেকে শক্তিপ্রদর্শন করল ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট, তেমনই পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়ল না শাসকদল বিজেপিও।
একদিকে রামলীলার মঞ্চ থেকে বিরোধী শিবিরের গর্জন, অন্যদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার চাঁচাছোলা জবাব—দুইয়ের সংঘাত ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের আছড়ে পড়া ক্ষোভ
রবিবার সকাল থেকেই দিল্লির রাজপথে আছড়ে পড়ে বিরোধী দলগুলির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সুবিশাল জনস্রোত। ইন্ডি জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই সমাবেশ থেকে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগা হয়।
বিরোধীদের মূল দাবি ও তোপ:
-
CEC-র পদত্যাগ: নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে ইস্তফা দাবি।
-
ভোটাধিকার রক্ষা: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির প্রতিবাদে জোরালো সুর।
-
সংবিধান রক্ষার হুঙ্কার: কেন্দ্র সরকার স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে বলে গুরুতর অভিযোগ।
‘পরাজয়ের ভয়েই এই অজুহাত!’ পাল্টা তোপ জে পি নাড্ডার
ইন্ডি জোটের এই মেগা সমাবেশ ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করার তীব্র বিরোধিতা করে মাঠে নেমেছেন বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা। বিরোধীদের এই অবস্থানকে ‘রাজনৈতিক স্টান্ট’ ও ‘পরাজয়ের আগাম অজুহাত’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
নাড্ডার জোরালো পাল্টাতোপ:
-
গণতান্ত্রিক সংস্থাকে অবমাননা: হার নিশ্চিত জেনেই বিরোধী দলগুলি সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত করছে।
-
জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন: রামলীলার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদী বিরোধিতা ছাড়া বিরোধীদের কাছে দেশের উন্নয়নের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই।
-
ভ্রান্ত প্রচারের রাজনীতি: সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই ‘জ্ঞানেশকাণ্ড’-এর মতো কাল্পনিক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
তীব্র সংঘাতের পথে জাতীয় রাজনীতি
রাজধানীর রামলীলা ময়দান থেকে ওঠা সিইসি-র ইস্তফার দাবি এবং তার জবাবে বিজেপির এই আক্রমণাত্মক পাল্টা জবাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলিতে সংসদ থেকে রাজপথ—সংঘাত আরও চরম আকার ধারণ করতে চলেছে।