মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের কাণ্ড! জুট মিল কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন, নেপথ্যে কোন রহস্য?

বিহারের সমस्तीপুর জেলা থেকে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। জেলার কল্যাণপুর থানার অন্তর্গত ভাগীরথপুর গ্রামের একটি জুট মিল চত্বরে ধারালো অস্ত্রের কোপে এক তরুণ কর্মীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম অজিত কুমার সাহনী, যিনি ওই স্থানীয় জুট মিলেরই কর্মী ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে পরিবারের তরફ থেকে টাকার লেনদেন বা ঋণ সংক্রান্ত বিরোধের কথা বলা হলেও, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়া সম্পর্ক ও পুরোনো পারস্পরিক শত্রুতার তত্ত্বই জোরালোভাবে সামনে এসেছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

সহকর্মীর সঙ্গেই বচসা এবং রক্তক্ষয়ী হামলা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত অজিত কুমার সাহনী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি উভয়েই কল্যাণপুরের মুসেপুর এলাকায় অবস্থিত ওই জুট মিলে একসঙ্গে কাজ করতেন এবং কাছাকাছি এলাকারই বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার দিন কোনো একটি বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে চরম হিংসাত্মক রূপ নেয়।

অভিযুক্তের কাছে আগে থেকেই একটি ধারালো অস্ত্র (হাঁসুয়া বা ফর্সা জাতীয় কিছু) ছিল, যার সাহায্যে সে অজিতের ওপর উপর্যুপরি ও ताबड़तोड़ আক্রমণ চালায়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে এও জানা গেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ এবং মুজফ্ফরপুরের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।

ডিএসপির স্পষ্ট বার্তা: নেপথ্যে অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহ
হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা পরিষ্কার করে ডিএসপি সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো এক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের (Illicit Relationship) সন্দেহ বা পরকীয়া সংক্রান্ত রঞ্জিষের জেরেই এই খুন করা হয়েছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্বে জনৈক এক বিধবা মহিলাকে দেওয়া টাকা ও ঋণ ফেরত পাওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ তোলা হলেও, ডিএসপি নিশ্চিত করেছেন যে তদন্তে এখনও পর্যন্ত আর্থিক লেনদেনের কোনো পোক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এসপি-র নির্দেশে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠন
হামলার পর গুরুতর জখম ও রক্তে ভেসে যাওয়া অজিতকে স্থানীয় লোকজন ও পরিচিতরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় পথেই তিনি মারা যান।

ঘটনার আকস্মিকতায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। সমপুরুরের এসপি অরবিন্দ প্রতাপ সিংয়ের কড়া নির্দেশে অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে একটি ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’ (Special Task Force) গঠন করা হয়েছে। অপরাধীর সম্ভাব্য সমস্ত আস্তানায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশের বিশেষ দল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *