রতন টাটার প্রয়াণের পরেই টাটা পরিবারে চরম গৃহযুদ্ধ! নোয়েল টাটা ও চন্দ্রশেখরনের ‘গোপন বৈঠক’ নিয়ে তোলপাড়!

ভারতীয় শিল্প জগতের অভিভাবক রতন টাটার অকাল প্রয়াণের পর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই টাটা সাম্রাজ্যের অন্দরে চরম বিরোধ ও গৃহযুদ্ধের কালো মেঘ দানা বেঁধেছে। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের (N Chandrasekharan) পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার মুখোমুখি সংঘাতের পথে টাটা ট্রাস্টের নব্য চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা (Noel Tata)।

দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট হাউসে তৈরি হওয়া এই মেগা নেতৃত্ব সংকট কাটাতে নোয়েল টাটা ও এন চন্দ্রশেখরনের মধ্যে এক অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের ‘সিক্রেট মিটিং’ বা গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নেতৃত্ব সংঘাত ও গোপন বৈঠক
‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অনুযায়ী, টাটা গোষ্ঠীর ভেতরের এই জটিল অন্তর্দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের বিরোধ মেটাতে গত ২৫ অক্টোবর এক গোপনে মুখোমুখি আলোচনায় বসেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এবং টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা। সূত্রের খবর, টাটা গ্রুপের প্রাক্তন দাপুটে কর্তা এনএ সুনাওয়ালা স্বয়ং উদ্যোগ নিয়ে এই অতি গোপনীয় বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন।

বৈঠকে মূলত যে তিনটি প্রধান বিষয় নিয়ে কথা হয়:

১. টাটা সন্সের শেয়ার বাজারে লিস্টিং (Listing) প্রক্রিয়া।

২. টাটা সংস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত সাপুরজি-পালোনজি গ্রুপের (Shapoorji Pallonji Group) শেয়ার ও অংশীদারিত্ব কিনে নেওয়া।

৩. চেয়ারম্যান হিসেবে এন চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বৃদ্ধি ও পুনর্নিয়োগ।

তবে সূত্রের খবর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা হলেও দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যকার বরফ গলেনি। কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বৈঠকটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়।

বোর্ড মিটিংয়ের ভোটিং রেকর্ড তলব ও নোয়েলের কড়া চিঠি
গোপন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর নোয়েল টাটা এক বিস্ফোরক চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের জন্য যে প্রক্রিয়া ও ভোটিং চালানো হয়েছিল, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নোয়েল টাটা কড়া সুরেই সেই বোর্ড মিটিংয়ের সম্পূর্ণ ভিডিয়ো রেকর্ডিং, সভার মূল নির্যাস (Minutes of the Meeting) এবং প্রতিটি পরিচালকের ভোটিং রেকর্ড জমা দেওয়ার জন্য তলব করেছেন।

১২ নভেম্বর বড় পদক্ষেপ: ৬টি সংস্থার বোর্ড ছাড়ছেন নোয়েল টাটা!
এই টানটান রাজনৈতিক ও আইনি নাটকের মাঝেই আরও এক বড় সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছে। আগামী ১২ নভেম্বর টাটা গ্রুপের অন্তর্গত ৬টি প্রধান কোম্পানির বোর্ড থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন নোয়েল টাটা।

টাটা গ্রুপের নিজস্ব নিয়ম অনুসারে, কোনো নন-এগজেকিউটিভ ডিরেক্টরের বয়স ৭০ বছর পূর্ণ হলেই তাঁকে পদ থেকে সরে যেতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই ট্রেন্ট, ভোল্টাস, টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন, টাটা ইন্টারন্যাশনাল, ট্রেন্ট হাইপারমার্কেট প্রাইভেট লিমিটেড এবং দুবাইয়ের টাটা ইন্টারন্যাশনাল ওয়েস্ট এশিয়া ডিএমসিসি-র নন-এগজেকিউটিভ ডিরেক্টর পদে ইস্তফা দিচ্ছেন তিনি।

তবে ডিরেক্টর পদ ছাড়লেও নোয়েল টাটা কিন্তু টাটা সন্স বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ ‘নমিনি ডিরেক্টর’ হিসেবে নিজের ক্ষমতা বজায় রাখবেন। ফলে রতন টাটার উত্তরসূরি এবং টাটা সন্স প্রশাসনের মধ্যে এই রাজকীয় ক্ষমতা দখলের লড়াই আগামী দিনে আরও কোন নতুন মোড় নেয়, সেদিকেই নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব তথা ভারতের শিল্প মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *