স্বাধীনতার পর প্রথমবার সর্বাত্মক পরিবর্তন! ‘ডিজিটাল জনগণনা ২০২৭’-এর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের!

বহু প্রতীক্ষিত এবং স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম সম্পূর্ণ প্রযুক্তিভিত্তিক বা ডিজিটাল জনগণনার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ অবশেষে প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (MHA)। প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভারতের ‘জনগণনা ২০২৭’ (Census 2027)-এর দ্বিতীয় তথা মূল জনসংখ্যা গণনার পর্ব শুরু হতে চলেছে আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে এবং তা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ পর্যন্ত।
পরপর ৫০ দিনের এই মূল তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হওয়ার পর ১ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত হবে বিশেষ ‘রিভিশনাল রাউন্ড’ বা সংশোধনী পর্ব। সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পুরো দেশের জনসংখ্যা গণনার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘রেফারেন্স ডেট’ বা ভিত্তি মুহূর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ মার্চ, ২০২৭ সালের রাত ১২:০০ টা (00:00 hours)।
কোথায় কোথায় এই সময়সূচি প্রযোজ্য?
বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, মণিপুর (পরবর্তী নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত), গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, লাদাখ এবং হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের তুষারাবৃত এলাকাগুলি ব্যতীত দেশের অন্যান্য সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একই সময়সূচি (২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি) মেনে জোড়কদমে এই তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে।
ঘরে বসেই অনলাইনে নিজে থেকেই দেওয়া যাবে তথ্য!
সাধারণ মানুষ যাতে বাড়ি-বাড়ি গণনাকারীরা (Enumerators) পৌঁছনোর আগেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনলাইনে নিজেদের এবং পরিবারের প্রাথমিক তথ্য জমা দিতে পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ১০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সেলফ-এনুমারেশন (Self-enumeration) বা স্বয়ং-গণনার ডিজিটাল সুযোগ উন্মুক্ত করার কথা জানিয়েছে।
৪০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে প্রতিটি পরিবারকে
সমগ্র জনগণনা প্রক্রিয়াটিকে মোট দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এর প্রথম পর্যায় অর্থাৎ ‘হাউস লিস্টিং ও হাউজিং সেনসাস’ শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে, যেখানে দেশের প্রতিটি পরিবারের আবাসন ব্যবস্থা, ঘরবাড়ির অবস্থা ও ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এবার দ্বিতীয় পর্বে মূলত প্রতিটি ব্যক্তির ডেমোগ্রাফিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্যাবলীর ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে। এই পর্বে এনুমারোটররা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ফর্মে মোট ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্বলিত শিডিউল পূরণ করাবেন। এই প্রশ্নমালায় অন্তর্ভুক্ত থাকছে:
বয়স ও বৈবাহিক অবস্থা
ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মসংস্থান
অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক স্থানান্তর এবং শারীরিক সক্ষমতা/অক্ষমতা সংক্রান্ত সূচক।
স্বাধীন ভারতে এই প্রথম সর্বাত্মক ‘জাতিভিত্তিক গণনা’
জনগণনা ২০২৭-এর সবচেয়ে ঐতিহাসিক দিকটি হলো দেশব্যাপী সর্বাত্মক ও সামগ্রিক জাতিভিত্তিক গণনা (Comprehensive Caste Enumeration)। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার সমস্ত ধর্মের ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পৃথকভাবে বিস্তারিত জাতিগত তথ্য সংকলন করা হবে। পূর্বে পরিচালিত জনগণনাগুলিতে কেবল মাত্র তফসিলি জাতি (SC) এবং তফসিলি উপজাতি (ST)-দের সংখ্যাই সুনির্দিষ্টভাবে গণনা করা হতো। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স’ (CCPA) সর্বসম্মতভাবে এই বড় সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছিল।
১১,৭১৮ কোটি টাকার মেগা বাজেট ও ডিজিটাল অ্যাপ
পুরো প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং তথ্যের ত্রুটি শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো ভারত সরকার ডিজিটাল টুলস ও বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে ডেটা সংগ্রহ করতে চলেছে। ফলে এটি খাতায়-কলমে দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল সেনসাস’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
কেন্দ্রীয় সরকার এই বিশাল রাষ্ট্রীয় কর্মযজ্ঞ সফল করতে মোট ১১,৭১৮.২৪ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের পরিধি বিস্তৃত থাকছে দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ৭,০৯২টি উপ-জেলা, ৫,১২৮টি সংবিধিবদ্ধ শহর, ৪,৫৮০টি সেনসাস টাউন এবং প্রায় ৬.৩৯ লক্ষ গ্রাম জুড়ে।