‘বাংলাকে সিপিএমের হাত থেকে বাঁচিয়ে আজ তারাই হাত মিলিয়েছে!’ শুভেন্দুর চাঞ্চল্যকর অভিযোগে রাজনৈতিক তুফান

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলের গোপন রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।

তৃণমূল-সিপিএম গোপন আঁতাত প্রসঙ্গ শুক্রবার বারুইপুরের এই জনসভায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি মথুরাপুর, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং জয়নগর সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব ও হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সভার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, একসময় সিপিএমের দীর্ঘদিনের অপশাসন ও অত্যাচার থেকে বাংলাকে মুক্ত করার স্লোগান তুলেই জন্ম নিয়েছিল তৃণমূল। অথচ বর্তমানে সেই তৃণমূলই রাজনৈতিক স্বার্থে সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোপন সমঝোতা করছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এবং সেখানে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে এখন জাতীয় স্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা চলছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময়ে অটলবিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ ও সহযোগিতাতেই তৃণমূলের উত্থান ঘটেছিল, কিন্তু আজ সেই দলই রাজনৈতিক স্বার্থে আদর্শ বিসর্জন দিয়েছে।

ভাইপো থেকে শুরু করে ‘বড় চোর’ প্রসঙ্গে হুঙ্কার নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘এঁচোড়ে পাকা ভাইপো’ বলে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ফলতার নির্বাচনী প্রচারের সময়কার বিভিন্ন মন্তব্য ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের নামে গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্বে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

রামমন্দির ও নন্দীগ্রাম-ভবানীপুরের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, “আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগছে—বড় চোরটা কবে যাবে? সঠিক সময় ও প্রক্রিয়া মেনেই সব হচ্ছে, বড় চোর ঠিক জেলে যাবে, চিন্তার কোনো কারণ নেই!”

বারুইপুরের এই মেগা সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান গরম করলেন, তাতে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তরজা যে আরও বহু গুণ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *