“শিক্ষিতরা ভোট দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ নয়!” হারে ক্ষুব্ধ রাজ্য সরকারের মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড়

মোদীর গড়ে ভরাডুবি বিজেপির! হেরে ‘শিক্ষিত ভোটার’দের কটাক্ষ মন্ত্রীর, উত্তরপ্রদেশে তুমুল তোলপাড়

উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ (MLC) নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির (SP) কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্র বারাণসী এবং রাজধানী লখনউয়ের মতো হেভিওয়েট আসনে বড়সড় হারের মুখ দেখতে হলো শাসক বিজেপিকে। আর এই লজ্জাজনক পরাজয়ের পরই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর।

বারাণসী ও লখনউ হাতছাড়া হওয়া প্রসঙ্গে সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি (SBSP) সুপ্রিমো তথা মন্ত্রী রাজভর বলেন,

“জনগণ তাঁদের রায় দিয়েছেন। তবে এটি শিক্ষিত ভোটারদের রায়, সাধারণ জনগণের রায় নয়। আমরা এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু মনে রাখবেন, বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই শিক্ষিত ভোটাররা আর বুথমুখী হবেন না, তখন কেবল সাধারণ ভোটারদেরই বুথে দেখা যাবে।”

রাজভরের এই মন্তব্য সামনে আসতেই শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েট স্তরের ভোটারদের অবমাননার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে যোগী রাজ্যে।

১১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: বিজেপির ৬, সমাজবাদী পার্টির ৫

বিধান পরিষদের ১১টি আসনের লড়াইয়ে বিজেপি ৬টি আসনে জিতলেও সমাজবাদী পার্টি ৫টি আসনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়ে শাসক শিবিরকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

  • বারাণসীতে চমক: বারাণসী আসনে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী আশুতোষ সিনহা ৫৫,০৪৬ ভোট পেয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা কেদার নাথ সিংকে পরাজিত করেছেন। পরাজয় স্বীকার করে কেদার নাথ সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

  • লখনউতে জয়: লখনউ গ্র্যাজুয়েট আসনেও বিজেপির অবনীশ কুমার সিংকে হারিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন এসপি প্রার্থী কান্তি সিং।

এছাড়া বিজেপি আগ্রা ও মিরাট গ্র্যাজুয়েট আসন এবং বেরিলি-মোরাদাবাদ, লখনউ, মিরাট ও গোরক্ষপুর-ফৈজাবাদ শিক্ষক আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি বারাণসী ও লখনউ গ্র্যাজুয়েট আসনের পাশাপাশি এলাহাবাদ-ঝাঁসি গ্র্যাজুয়েট এবং বারাণসী ও আগ্রা-আলিগড় শিক্ষক আসনেও জয়লাভ করেছে।

“আত্মসমীক্ষা করব”, সুর নরম উপ-মুখ্যমন্ত্রীর

প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় দলীয় পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মসমীক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য।

লখনউয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমরা আরও বেশি আসন প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু তা হয়নি। সমাজবাদী পার্টি এমন কিছু আসনে জিতেছে যেখানে তাদের জেতার কথা ছিল না। আমরা এই ফলাফলের পর নিশ্চিতভাবেই দলের ভেতরে আত্মসমীক্ষা করব এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে কাজ করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিধান পরিষদের এই ফল বিজেপি শিবিরকে চিন্তায় ফেললেও অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিকে বিশাল মনস্তাত্ত্বিক অক্সিজেন দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *