“গঙ্গাবক্ষে রিভার ক্রুজ় থেকে বাইক অ্যাম্বুল্যান্স!”-জগদ্ধাত্রী পুজোয় রাজ্য সরকারের উপহার!

আলোকসজ্জা ও তিলোত্তমা প্রতিমার টানে প্রতি বছর ফরাসডাঙা অর্থাৎ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় ভেঙে পড়ে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর ভিড়। তবে এ বছরের ছবিটা একেবারেই আলাদা ও নজিরবিহীন হতে চলেছে! চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোকে বিশ্বমঞ্চে ও পর্যটন মানচিত্রে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রিভার ক্রুজ়, বিশেষ ফেরি সার্ভিস, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট দর্শন এবং গলি রাস্তায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য বাইক অ্যাম্বুল্যান্স— একগুচ্ছ নতুন পরিষেবা দিয়ে সাজানো হচ্ছে এ বারের পুজো।

গঙ্গাবক্ষে রিভার ক্রুজ় ও বিশেষ প্যাকেজ সফর

বাইরে থেকে আসা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এ বার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘রিভার ক্রুজ়’ পরিষেবা। চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানান, বিশেষ পর্যটন প্যাকেজের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা কলকাতার বাবুঘাট থেকে গঙ্গাবক্ষে ক্রুজ়ে চেপে সোজা চন্দননগর ঘাটে এসে প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন এবং দর্শন শেষে আবার নিরাপদে ফিরে যেতে পারবেন। পাশাপাশি চন্দননগর থেকে ভদ্রেশ্বর পর্যন্ত ফেরি চালুরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরু গলিতে রোগী মেলাতে প্রস্তুত ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স’

সপ্তমী থেকে দশমী— এই চার দিন চন্দননগরের রাস্তায় মানুষের ঢল নামায় সাধারণ চার চাকার অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতে বেগ পেতে হয়। সেই সমস্যার সমাধান করতে এ বার তৈরি রাখা হচ্ছে স্পেশাল ‘বাইক মেডিক্যাল অ্যাম্বুল্যান্স’। ঠাকুর দেখার মাঝে ভিড়ের মধ্যে কেউ আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে সরু গলি পেরিয়ে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ছুটে যাবে এই বাইক অ্যাম্বুল্যান্স। এছাড়াও চুঁচুড়া ও চন্দননগর দুই মহকুমা হাসপাতালকেই সর্বক্ষণ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

প্রবীণদের জন্য বিশেষ সম্মান ও দর্শন ব্যবস্থা

ভিড়ের চাপে অনেক সময় প্রবীণ নাগরিকরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখার সাহস পান না। তাঁদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে প্রশাসন। একটি নির্দিষ্ট পিক-আপ পয়েন্ট থেকে প্রবীণ নাগরিকদের বিশেষ গাড়িতে করে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করানো হবে এবং কাজ শেষে আবার তাঁদের সেই নির্দিষ্ট পয়েন্টে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হবে।

আঙ্গুলের ডগায় ট্র্যাফিক আপডেট ও ‘স্মার্ট অ্যাপ’

দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এ বার চালু করা হচ্ছে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ।

  • মণ্ডপের সঠিক অবস্থান ও রুট ম্যাপ

  • শহরের ট্র্যাফিক আপডেট

  • জরুরি হেল্পলাইন ও পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এক ক্লিকেই পেয়ে যাবেন দর্শনার্থীরা।

সুরক্ষা ও সমন্বয়: কী বলছেন বিধায়ক?

অতীতে অন্যান্য পুজোর অপ্রীতিকর ঘটনার থেকে শিক্ষা নিয়ে চন্দননগরে এ বার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছদ্র রাখা হচ্ছে। বিসর্জনের দীর্ঘ শোভাযাত্রাতেও থাকবে কড়া ড্রোন ও পুলিশি নজরদারি।

প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, “এ বার প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তর, পূর্ত দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর এবং পুজোর কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে। বর্তমান বিধায়ক মিটিংয়ে বসে সবার মতামত ও সমস্যা শুনছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। এটাই প্রকৃত পরিবর্তন।” সব মিলিয়ে এ বারের চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো দর্শনার্থীদের কাছে এক অভূতপূর্ব ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *