‘বড় জায়গায় হাত পড়বে’, ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারিতে কাকে নিশানা করলেন শুভেন্দু ?

ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর ভুয়ো পাস বিক্রি এবং বিপুল অর্থ তছরুপের মামলায় অবশেষে লালবাজারের হাতে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার ইডি (ED) দফতর সিজিএইচ কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়া মাত্রই পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তুলে সোজা লালবাজারে নিয়ে যায়। এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারির পরপরই নবান্ন থেকে সরাসরি তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

“ডুয়েট গাইতেন, এবার যাওয়ার সময় হলো!”

সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের সম্পর্কের রসায়ন টেনে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে জায়গা পেতেন উনি (ইন্দ্রনীল)। যেখানে অনেক বড় বড় প্রভাবশালী মন্ত্রীও জায়গা পেতেন না!”

বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে মমতা ও ইন্দ্রনীলের একসঙ্গে গান গাওয়ার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “ওঁরা তো সবসময় ডুয়েট গাইতেন।” এর পরেই সাংবাদিক বৈঠকের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে গান গেয়ে ওঠেন— ‘আমার যাওয়ার সময় হলো…’।

“প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদত থাকতে পারে!”

ইন্দ্রনীলের এই দুর্নীতিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে সরাসরি আঙুল তুলে শুভেন্দু বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদতেই হয়তো এসব হয়েছে। একই গাড়িতে ঘুরতেন, তাই ভাগের টাকাও পেতেন হয়তো! শিল্পীদের থেকেও টাকা তোলা হয়েছিল। স্ত্রীর নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ও সিঙ্গুরে বিলাসবহুল খামারবাড়ি বানিয়ে বিপুল সম্পত্তি গড়া হয়েছে। সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে। সঠিক সময়ে বড় জায়গায় হাত পড়বে!”

কীসের ভিত্তিতে এই অ্যাকশন?

পুলিশ ও তদন্তকারীদের দাবি, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে ইউনেস্কোর লোগো ও নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। সেই টাকা বিভিন্ন ভুয়া বা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ (Miul Accounts) ও শেল কোম্পানির মাধ্যমে আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

গত জুন মাসে বউবাজার থানায় সস্ত্রীক ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। সেই FIR-এর সূত্র ধরেই লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত ত্বরান্বিত করে এবং বুধবার সিজিএইচ কমপ্লেক্সের বাইরে থেকে সরাসরি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

উৎসবের মরশুম শেষ হতে না হতেই রাজ্য রাজনীতির এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি ও নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চাঁচাছোলা আক্রমণ এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *