নভেম্বরের শুরুতেই তোলপাড় ফেলা পদক্ষেপ! নবান্নের বৈঠক থেকে নতুন কী চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

দুর্গাপুজোর আবহ মিটতেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে তৎপর নবান্ন। বুধবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ক্যাবিনেট বৈঠকের পর বিজেপির সংকল্প পত্রে ঘোষিত বিভিন্ন প্রকল্প ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত থেকে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ নভেম্বর বিকেল পাঁচটায় রাজ্যের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন শিল্পনীতি (New Industrial Policy) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে চলেছে।
নতুন শিল্পনীতি ও সংকল্প পত্রের পর্যালোচনা
বিগত কিছু দিন ধরেই রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে চলছিল। এই লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ মন্ত্রিগোষ্ঠী (Group of Ministers) ইতিমধ্যেই তাদের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পেশ করেছিল। বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই খসড়ার ভিত্তিতে তৈরি প্রস্তাবিত শিল্পনীতির অনুমোদন ও চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সবুজ সংকেত মিলেছে বলে খবর।
নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন নীতির মূল লক্ষ্য হল—
-
নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ: রাজ্যকে লগ্নির জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তোলা এবং বিশাল অংকের দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ টানা।
-
শিল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন: শিল্পতালুক ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করা।
-
কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি: যুবসমাজের জন্য ব্যাপক মাত্রায় সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা।
পাশাপাশি, সংকল্প পত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি প্রশাসনিক স্তরে কত দ্রুত বাস্তবে রূপায়ণ করা সম্ভব, সেই বিষয়টিরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এ দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে।
উৎসবের প্রস্তুতিতেও কড়া নজরদারির নির্দেশ
প্রশাসনিক পরিকাঠামো পর্যালোচনার পাশাপাশি সামনেই আসা একাধিক বড় উৎসবের আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বিশেষ সতর্কতামূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। আসন্ন কালীপুজো, ছটপুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজো কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বজায় রাখা, পুজো মণ্ডপগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ-প্রশাসনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, আগামী ৫ নভেম্বর প্রকাশ পেতে চলা নয়া শিল্পনীতি রাজ্যের অর্থনৈতিক চিত্র ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক মোড় নিয়ে আসবে বলেই আশা প্রকাশ করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।