ব্রাজিল নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে সরাসরি তোপ দাগলেন ট্রাম্প! মিত্রের হারে ফুঁসছে ওয়াশিংটন

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী মিত্র ফ্লাভিও বলসোনারোর পরাজয়ের পর নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের ফলকে সরাসরি “কারচুপিপূর্ণ” ও “চরম দুর্নীতিগ্রস্ত” আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, যেভাবে ভোট গণনা এবং সময় বাড়ানো হয়েছে, তা গোটা বিশ্বের সামনে এক অত্যন্ত বাজে বার্তা তুলে ধরেছে। বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে কট্টর ডানপন্থী সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর এই পরাজয় লাতিন আমেরিকায় নিজের প্রভাব বিস্তারের যে রাজনৈতিক ছক ট্রাম্প কষেছিলেন, তাতে বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে অংশ নিতে ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তাঁর চোখে এই নির্বাচন কোনওভাবেই স্বচ্ছ হয়নি। তিনি বলেন, স্পষ্টতই এটি আরেকটি কারচুপির নির্বাচন বলে মনে হয়েছে। যে কোনও দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নাতীত ও নিখুট হওয়া জরুরি, কিন্তু ব্রাজিলে যা ঘটল তা দেখতে অত্যন্ত কুৎসিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত লেগেছে। কিছু শহরে যাতায়াত সমস্যার অজুহাতে লুলার শিবিরের অনুরোধে ভোটগ্রহণের সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া এবং শেষ মুহূর্তের ভোট গণনার গতিপ্রকৃতি নিয়েই মূলত বলসোনারোর মতো ট্রাম্পও কারচুপির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে আন্তর্জাতিক স্তরে এই নির্বাচন নিয়ে আমেরিকা কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে কি না—এমন প্রশ্নে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কিছুটা পাশ কাটিয়ে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি মন্তব্য করেন, তিনি ব্রাজিলের মসনদের জন্য লড়াই করছেন না, তিনি আমেরিকার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অদ্ভুতভাবে একদিকে নির্বাচন নিয়ে বিষোদ্গার করলেও লুলার সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের দাবি করতে ভোলেননি ট্রাম্প। আশির কোঠায় পা রাখা দুই নেতার রাজনৈতিক মতাদর্শ বিপরীত মেরুর হলেও এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া বা ‘কেমিস্ট্রি’ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিকে ডানপন্থী ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রকাশ্য কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে তাঁর সমর্থিত দক্ষিণপন্থী নেতাদের জয় নিয়ে সম্প্রতি তিনি বড়াইও করেছিলেন। ফ্লাভিও জয়ী হলে সেই ডানপন্থী বলয় আরও সংহত হতো। কিন্তু লুলার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন এবং বলসোনারো শিবিরের এই ভরাডুবি ট্রাম্পের সেই প্রত্যাশায় জল ঢেলে দেওয়ায় তিনি যে নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে সোচ্চার হবেন, সেটাই স্বাভাবিক।