মাটির ২০০ ফুট গভীরে দমবন্ধ করা ১২ ঘণ্টা! কয়লা খনিতে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন ১২ শ্রমিক!

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর এলাকার কুমারডিহি-এ কোলিয়ারিতে সোমবার সন্ধ্যায় এক বড়সড় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার উপক্রম হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেল ১২ জন খনি শ্রমিক। খনির অন্দরে প্রায় ২০০ ফুট গভীরতায় ‘ডোলি’ (শ্রমিকদের আনা-নেওয়ার লিফট) আটকে যাওয়ায় ১২ জন শ্রমিক দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে মাটির নিচে অন্ধকারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবশেষে দীর্ঘ রাতভর উদ্ধারকাজের পর মঙ্গলবার সকাল ৫টা নাগাদ সমস্ত শ্রমিককে নিরাপদে ও অক্ষত অবস্থায় বাইরে বের করে আনা হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল সোমবার সন্ধ্যায়?
সূত্রের খবর, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ কুমারডিহি-এ কোলিয়ারির ইঞ্জিন রুমের ড্রামে ডোলির লোহার রশিটি হঠাৎই জট পাকিয়ে ফেঁসে যায়। এর জেরে ভূগর্ভের প্রায় ২০০ ফুট গভীরে মাঝপথে ঝুলে পড়ে ডোলিটি। সেই সময় ভেতরে মোট ১২ জন ইসিএল (ECL) কর্মী ও শ্রমিক सवार ছিলেন। খনির অন্ধকূপ ও ভয়ের পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় চরম মানসিক ও শারীরিক আতঙ্কের মধ্যে কাটান ওই শ্রমিকরা।

সারারাত খনির মুখে বসেছিলেন বিধায়ক ও স্বজনেরা
খবর ছড়িয়ে পড়তেই খনির মুখেই ভিড় জমতে শুরু করে। প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় সারারাত চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে সময় কাটান শ্রমিকদের পরিবারবর্গ। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সারারাত খনির মুহানেই উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ তদারকি করেন।

তাঁর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসিএল-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কোলিয়ারি এজেন্ট মধুসূদন সিং, খনি ব্যবস্থাপক, জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও স্থানীয় পুলিশ কর্মীরা। প্রথমদিকে রশির জট ছাড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের একটি দল তলব করা হয়। ড্রামটি সারাইয়ের পর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৫টায় এক এক করে ১২ জন শ্রমিককে সুস্থ অবস্থায় উপরে তুলে আনা হয়। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা বন্দি থাকার কারণে শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থা কিছুটা বিধ্বস্ত হওয়ায় তাঁদের দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন
এই ঘটনার পরেই ইসিএল (ECL) কর্তৃপক্ষের খনি নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র কিছুদিন আগেই সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিন ড্রামটি পুরোপুরি মেরামত করা হয়েছিল। তাহলে এত দ্রুত কীভাবে আবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিল? খনি পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও কোনো চরম গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে কোলিয়ারিতে ব্যবহৃত সমস্ত ভারী যন্ত্রাংশ ও সুরক্ষাবিধির কঠোর অডিট বা নিরাপত্তার পরীক্ষা করানোর জোরালো দাবি উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *