পুলিশের ঘরেই দুর্ধর্ষ চুরি! ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে চম্পট দিল চোরের দল!

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে চোরদের দৌরাত্ম্য এবার সব সীমা ছাড়িয়ে গেল। সাধারণ মানুষ তো দূর, এবার চোরের দলের নজর পড়ল খোদ এক পুলিশ আধিকারিকের বাসভবনে! ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে এক সাব-ইন্সপেক্টরের (দারোগা) বাড়ি থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সোনাদানা ও নগদ অর্থ সাফ করে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে রাঁচির চুটিয়া থানা এলাকার প্যাটেল কম্পাউন্ডে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুক্তভোগী সাব-ইন্সপেক্টরের নাম শশী গুপ্ত। তিনি বর্তমানে হাজারিবাগ জেলায় কর্মরত।
ফাঁকা বাড়ি রেকি করে অপারেশন!
সাব-ইন্সপেক্টর শশী গুপ্ত জানান, চুটিয়া থানা এলাকার প্যাটেল কম্পাউন্ডে তাঁর নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। তবে হাজারিবাগে তাঁর পোস্টিং থাকায় পরিবার নিয়ে তিনি সেখানেই ছিলেন। আর এই সুযোগটাকেই কাজে লাগায় চোরের দল। অভিযোগ, চোরেরা আগে থেকেই বাড়িটিকে ভালভাবে রেকি বা নজরদারি করে রেখেছিল। এরপর ঘর ফাঁকা থাকার সুযোগ বুঝে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
দুষ্কৃতীরা বাড়ির প্রতিটি ঘরে ঢুকে সমস্ত আলমারি ও বাক্স তছনছ করে। ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র, সোনার গহনা এবং মোটা অংকের নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি চম্পট দেয়। পুলিশকে দেওয়া বয়ানে দারোগা শশী গুপ্ত জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের জিনিস চুরি গিয়েছে।
সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ল চুরির দৃশ্য
পুরো চুরির অপারেশনটি সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে বন্দি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজ হস্তান্তর করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিক।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শশী গুপ্তের এক আত্মীয় তাঁর অনুপস্থিতিতে বাড়িটি দেখভাল করতে আসেন। তিনি এসে দেখেন প্রধান ফটকের তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতেই তাঁর সন্দেহ হয় এবং ভেতরে ঢুকে চুরির বিষয়টি দেখতে পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ ও শশী গুপ্তকে খবর দেন।
তদন্তে নামল ফরেনসিক ও ডগ স্কোয়াড
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চুটিয়া থানার পুলিশ, ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) টিম এবং ডগ স্কোয়াডকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
চুটিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে চোরদের শনাক্ত করার কাজ জোরকদমে চলছে। খোদ পুলিশের বাড়িতে এই ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।