নৈনিত্তালে গিয়ে মন্দিরে বিয়ে, তারপর পার্কে বসে একসঙ্গে বিষপান! উত্তরপ্রদেশের প্রেমে মর্মান্তিক পরিণতি!

পরিবারের অমত মেনে লুকিয়ে বিয়ে করার পর আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক প্রেমিক যুগল। উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সুদূর নৈনিত্তালে গিয়ে সাতপাকে বাঁধা পড়ার পর बरेली পৌঁছে বিষপান করেন ওই তরুণ-তরুণী। বর্তমানে দুজনেই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পার্কে ছটফট করতে দেখে স্থানীয়দের নজরে আসে ঘটনাটি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ বারেলির বিখ্যাত গান্ধী উদ্যানে প্রাতঃভ্রমণ ও সাধারণ মানুষ যখন হাঁটাহাঁটি করছিলেন, ঠিক তখনই পার্কের এক কোণে এক যুবক ও তরুণীকে অচৈতন্য অবস্থায় ছটফট করতে দেখেন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে পার্কের গার্ডকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশে খবর পাঠানো হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, পথেই কোথাও সালফাস জাতীয় বিষাক্ত পদার্থ কিনেছিলেন ওই দুজনে, যা পরে পার্কে বসে সেবন করেন তাঁরা। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর সঙ্গে সঙ্গে শাহজাহানপুর পুলিশ ও দুই যুবকের পরিবারকে জানানো হয়েছে।
আলাদা জাতের প্রেম, নৈনিত্তালে গিয়ে বিয়ে
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, বেশ কিছুদিন ধরেই দুজনের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর বাড়ির পাশেই যুবকের ফুফুর বাড়ি হওয়ায় সেখানে যাতায়াতের সুবাদেই দুজনে কাছাকাছি এসেছিলেন। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তাঁদের ভিন্ন জাতের হওয়ার কারণে। পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবেই এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। উপায় না দেখে দুজনে বাড়ি থেকে পালিয়ে সোজা চলে যান নৈনিত্তালে এবং সেখানে গিয়ে মন্দিরে বিয়ে করেন।
কিন্তু বাড়ি ফিরেই শুরু হয় নতুন সংকট। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাসপাতালে দেওয়া জবানবন্দিতে তরুণী জানান, পরিবারের অসম্মতির কারণেই তাঁরা আত্মহত্যার এই চরম পথ বেছে নেন।
পরিবারের করা অপহরণের মামলা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
অন্যদিকে, তদন্তে জানা গেছে যে তরুণীটি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ‘ফ্যান্সি ড্রেস প্রতিযোগিতায়’ যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি জিন্স-টপ পরে হেলমেট মাথায় দিয়ে স্কুটিতে করে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সারাদিন পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সন্দেহ হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে স্কুল বা প্রতিযোগিতার কথা বলা হয়েছিল, সেখানে তিনি যাননি। এমনকি ওই যুবকও একই সময়ে নিখোঁজ ছিলেন। এরপর ক্ষুব্ধ তরুণীর বাবা শাহজাহানপুরের তিলহর থানায় ওই যুবক ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মেয়ের অপহরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে বারেলিতে এই ঘটনা ঘটার খবর পেয়েই দুই পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তিলহর থানার পুলিশও বারেলি পৌঁছে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। চিকিৎসকদের মতে, দুজনেরই শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। বর্তমানে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আলাদা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।