মাত্র ৪ টাকা ফেরত পেতে গিয়ে এক ধাক্কায় অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ৯৮ হাজার! অনলাইনে ব্যাগ কিনে নিঃস্ব মহিলা!

মাত্র চার টাকা ফেরত পাওয়ার লোভে সর্বস্বান্ত হতে হল এক গৃহবধূকে। অনলাইন শপিংয়ে ব্যাগ কিনে সামান্য সেই খুচরো টাকা রিফান্ড পেতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেল প্রায় ৯৮ হাজার টাকা। চাঞ্চল্যকর এই সাইবার প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে। ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে আধারতাল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জবলপুরের আধারতাল এলাকার বোর্ড কলোনির বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সি সবিতা দেবী সম্প্রতি অনলাইন থেকে একটি ব্যাগ কেনেন। সেই ব্যাগ ডেলিভারি দিতে আসা ডেলিভারি বয় তাঁর কাছ থেকে মোট ৫৩০ টাকা নেন। কিন্তু ব্যাগটির আসল দাম ছিল ৫২৬ টাকা। হিসাবমতো বাকি থাকা মাত্র ৪ টাকা ফেরত চান সবিতা। সেই সময় ডেলিভারি বয় তাঁকে জানান যে ওই রিফান্ডের টাকা পেতে হলে অনলাইনে যোগাযোগ করতে হবে।
এরপর চার টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় ইন্টারনেট থেকে সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালের কাস্টমার কেয়ার নম্বর খুঁজে বের করেন সবিতা। সেই নম্বরে ফোন করতেই তাঁর সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা হয়। অপর প্রান্ত থেকে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করে। আর সেই কথোপকথনের মাঝেই সমস্ত ফাঁদ পেতে সবিতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে উধাও হয়ে যায় ৯৮ হাজার টাকা। কিছু সময় পর অ্যাকাউন্ট চেক করতে গিয়ে বড়সড় প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ওই মহিলা। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এরপরই তিনি দ্রুত আধারতাল থানায় গিয়ে সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বাড়ছে সাইবার অপরাধের গ্রাফ
পুলিশ জানিয়েছে, জবলপুরে সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার প্রতারণার ঘটনা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। সবিতার ঘটনার পাশাপাশি দুর্গাপ্রসাদ নামে পানাগড়ের এক সরকারি স্কুলের শিক্ষকও সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক করে ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এছাড়া মাধোতাল থানা এলাকা থেকেও মোবাইল হ্যাকিং ও সাইবার প্রতারণার আরও তিনটি বড় ঘটনা সামনে এসেছে। আশিস ভাট নামের এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০ হাজার, রাহুল দুবের অ্যাকাউন্ট থেকে ৭০ হাজার এবং আকাশ কুমার নামে আরও এক যুবকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গেছে।
পুলিশের জরুরি সতর্কতা
একাধিক এই ধরনের ঘটনার পর সাধারণ মানুষের জন্য কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য, অনলাইন শপিং করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ইন্টারনেটে হুটহাট কোনো কাস্টমার কেয়ার নম্বর খুঁজে তাতে ফোন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। কেনাকাটা করা আসল সংস্থার অফিশিয়াল পোর্টাল বা অ্যাপ ছাড়া অন্য কোথাও যোগাযোগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণে সাইবার জালিয়াতির শিকার হলে দেরি না করে অবিলম্বে স্থানীয় থানায় বা সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।