নতুন গাড়ি কিনে স্ত্রীর পায়ে আলতা দিয়ে বোনেটে ছাপ! সোশ্যাল মিডিয়ায় এই রোমান্টিক দৃশ্য দেখে কেন রেগে আগুন নেটপাড়া?

ঘরে নতুন গাড়ি আসার আনন্দ কার না থাকে! সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই নিজের মতো করে সেই খুশির মুহূর্ত সেলিব্রেট করেন। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর প্রতি ভালোলাগা ও সম্মান জানাতে গিয়ে এমন এক কাণ্ড ঘটালেন, যা রাতারাতি ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। তবে আনন্দের এই মিষ্টি মুহূর্তটি খুব দ্রুত রূপ নেয় এক তীব্র তর্কে— যেখানে প্রশ্ন উঠল ভালোবাসা, অর্থ, ইএমআই (EMI) এবং পিতৃতান্ত্রিক সমাজের মানসিকতা নিয়ে।
কী ছিল সেই ভাইরাল ভিডিওতে?
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি ভিডিও দারুণভাবে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি তাঁর সদ্য কেনা নতুন গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এরপর তিনি তাঁর স্ত্রীকে সস্নেহে কোলে তুলে নেন এবং স্ত্রীর পায়ে আলতা লাগিয়ে সোজা নতুন গাড়ির বোনেটে তার ছাপ বসিয়ে দেন।
বাঙালি বা ভারতীয় সংস্কৃতিতে নতুন বউ যখন প্রথমবার ঘরে আসে, তখন আলতা রাঙা পায়ে গৃহপ্রবেশের যে প্রথা রয়েছে, ঠিক সেই অনুকরণেই স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা জাহির করেছিলেন ওই স্বামী। তিনি যে স্ত্রীকে ঘরের লক্ষ্মী মনে করেন এবং নিজের জীবনে কতটা বিশেষ স্থান দেন, এই ভিডিও তারই প্রমাণ ছিল। প্রথমদিকে নেটিজেনদের একাংশের কাছে এই দৃশ্য অত্যন্ত মিষ্টি ও মনরোমাঞ্চকর বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা এবং দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় নেটপাড়া।
‘ও কি ইএমআই দিয়েছে?’— টাকার অঙ্কে মাপার বিতর্ক
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই কমেন্ট বক্সে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। একদল মানুষ প্রশ্ন তোলেন, “যদি গাড়িটি কেনার জন্য ওই মহিলা টাকা না দিয়ে থাকেন বা ইএমআই (EMI) না ভরেন, তবে কেন তাঁর পায়ের ছাপ দিয়ে গাড়ি পুজো করা হবে?”
সমালোচকদের বক্তব্য ছিল, সম্পর্কের জায়গা আলাদা, কিন্তু অর্থনৈতিক অবদান ছাড়া এই ধরনের সম্মান প্রদর্শন অর্থহীন। মুহূর্তের মধ্যে ভালোবাসার এক্সপ্রেশনটি চলে আসে টাকার অঙ্কে। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করতে শুরু করেন যে, বর্তমান যুগে যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই অর্থনৈতিকভাবে লড়াই করতে হয়, সেখানে গাড়ি কেনার পেছনে কার কত আর্থিক অবদান রয়েছে, সেটাই আসল বিচার্য হওয়া উচিত।
ভালোবাসা নাকি টাকা? সমাজ নিয়ে শুরু নতুন বিতর্ক
টাকার মাপকাঠিতে সম্পর্ককে বিচার করার এই মানসিকতা দেখেই ক্ষুব্ধ হন সমাজের অন্য একটি বুদ্ধিমান অংশ। তাঁরা সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে জানান যে, একটি পরিবারের বা সংসারের পেছনে একজন নারীর অবদান কেবল নগদ টাকা বা লোনের কিস্তি পরিশোধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। গৃহস্থালির মানসিক শান্তি, মানসিক সাপোর্ট এবং ভালোবাসার যে অবদান নারীরা রাখেন, তা কোনো মুদ্রার অঙ্কে মাপা যায় না।
ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশকে অর্থ দিয়ে বিচার করার এই প্রবণতা কি তবে আমাদের সমাজের সংকীর্ণ মানসিকতারই পরিচায়ক? এই প্রশ্ন তুলেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল চর্চা।