ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকারী সাইক্লোন ‘অর্ণব’! ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ল্যান্ডফল, ওড়িশা-আন্ধ্রে রেড অ্যালার্ট জারি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তিশালী রূপ ধারণ করে প্রলয়ংকারী সাইক্লোন ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড় বিধ্বংসী রূপ নিয়ে প্রতিবেশী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় জেলাগুলোতে চরম সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
ওড়িশা সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যাতায়াত পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট এবং নবরংপুর— এই ৬টি দক্ষিণ জেলায় পাহাড়, জলপ্রপাত, বাঁধ এবং পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মারাত্মক রূপ নেবে সাইক্লোন ‘অর্ণব’
আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালের মধ্যে গভীর নিম্নচাপটি ঘণ্টায় ১৫ কিমি বেগে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একটি প্রথাগত ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতের মধ্যে এটি মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি ‘গুরুতর ঘূর্ণিঝড়’ (Severe Cyclonic Storm)-এ পরিণত হতে পারে এবং ২৭ অক্টোবরের মধ্যে এর তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ‘অত্যন্ত গুরুতর ঘূর্ণিঝড়’ (Very Severe Cyclonic Storm)-এর আকার নেবে। সব ঠিক থাকলে বুধবার এটি অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল স্পর্শ করবে।
স্কুল-কলেজ বন্ধ এবং কর্মচারীদের ছুটি বাতিল
ঝড়ের আশঙ্কাজনক গতিপ্রকৃতি দেখে ওড়িশা সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর এই ছ’টি উপদ্রুত জেলায় সমস্ত স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
দক্ষিণাঞ্চলের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজের জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), ওড়িশা দ্রুত সাড়াদানকারী দল (ODRAF), অগ্নিনির্বাপক বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীকে আগেভাগেই মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজ ও কৃষকদের সতর্কতা
যদিও সাইক্লোনের মূল ল্যান্ডফল অন্ধ্রপ্রদেশে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবুও ওড়িশা সরকার কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির নির্দেশে পরিস্থিতি তদারকি করতে আটজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যান্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার মধ্যে, কৃষি দফতর কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে যে, যে সমস্ত ফসল ৮০-৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পেকে গেছে, তা দ্রুত কেটে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে। কৃষকদের সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ কৃষি হেল্পলাইন নম্বর। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আর্জি জানিয়েছেন।