‘সাত বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলাম!’ সুনীতার ক্ষোভের মাঝে মুখ খুললেন গোবিন্দা

বলিউডের অন্যতম চর্চিত ও জনপ্রিয় তারকা দম্পতি গোবিন্দা ও সুনীতা আহুজার দাম্পত্য জীবন নিয়ে জল্পনা যেন কিছুতেই থামার নাম নিচ্ছে না। মাঝে মধ্যেই বিচ্ছেদের গুঞ্জন এবং নানা জল্পনা-কল্পনায় শিরোনামে উঠে আসে এই তারকা জুটির নাম। সম্প্রতি অভিনেত্রী কোমল রানির সঙ্গে গোবিন্দার নাম জড়িয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন সুনীতা। অবশেষে সেই সমস্ত গুঞ্জন ও বিতর্ক নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন খোদ অভিনেতা গোবিন্দা। তবে স্ত্রীর সরাসরি করা অভিযোগগুলোর কোনো জবাব না দিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন তিনি। গোবিন্দার সাফ দাবি, কেউ অত্যন্ত সুকৌশলে ও ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর স্ত্রী সুনীতাকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এমনকী আজ থেকে প্রায় সাত-আট বছর আগেই নাকি ভবিষ্যতের এই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথা তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানান দিক নিয়ে মুখ খুলে নিজের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করেছেন গোবিন্দা। তাঁকে ঘিরে চলা নানা সমালোচনা ও চর্চা অজানা নয়, তবে এই সমস্ত কথার পালটা জবাব দিয়ে প্রকাশ্যে কোনো রকম তিক্ত তর্কে জড়াতে নারাজ অভিনেতা। গোবিন্দার মতে, প্রতিটি মানুষ নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিভিন্ন বিষয় বিচার করেন। বিশেষ করে তাঁকে ঘিরে মহিলাদের নানা প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যকে তিনি সম্পূর্ণ সম্মান করতে চান। অভিনেতার স্পষ্ট বক্তব্য, এই কঠিন পরিস্থিতিতে অহেতুক মুখ না খুলে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখাই তাঁর প্রধান পছন্দ। কারণ সাময়িক বিতর্ক সময়ের সঙ্গে ঝিমিয়ে গেলেও জনসমক্ষে করা উত্তপ্ত মন্তব্য বা কথার প্রভাব অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কাউকে অপমান করা বা কাউকে অহেতুক অস্বস্তিতে ফেলা তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য নয়। তাই শত প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও দারুণ সংযম ও ধৈর্য বজায় রেখেই সামনের দিকে এগোতে চান বলিউডের জনপ্রিয় ‘হিরো নম্বর ওয়ান’।

অতীতের স্মৃতিচারণা করে গোবিন্দা দাবি করেন যে, আজ থেকে প্রায় সাত-আট বছর আগেই তিনি টের পেয়েছিলেন এমন একটা দিন আসতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে বহু বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং বহুবার তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। গোবিন্দার দৃঢ় ধারণা, তাঁকে ও সুনীতাকে কেন্দ্র করে কেউ বা কারা একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বা পরিস্থিতি তৈরি করছে। তাঁর মতে, মাঝে মাঝে পরিবারের অতি কাছের ও বিশ্বস্ত মানুষও বাইরের কোনো কুচক্রী মানুষের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। সুনীতার ক্ষেত্রেও বর্তমানে অবিকল তেমনই কিছু ঘটছে বলে মনে করছেন অভিনেতা। তবে ঠিক কোন বিশেষ ব্যক্তি বা চক্র এই কাজের নেপথ্যে রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম প্রকাশ করেননি তিনি। ফলে তাঁর এই রহস্যজনক মন্তব্য ঘিরে বলিপাড়ায় নতুন করে জল্পনার ঝড় উঠেছে।

সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েন ও ঝড়ঝাপটার মধ্যেও স্ত্রীর প্রতি নিজের অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার কথা বলতে এতটুকুও ভোলেননি গোবিন্দা। তাঁর মতে, তাঁর আজকের এই বিশাল সাফল্য, খ্যাতি এবং সামাজিক সম্মানের নেপথ্যে মায়েদের আশীর্বাদের পাশাপাশি সুনীতার অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বর্ণময় জীবনে স্ত্রীকে বরাবরই সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন তিনি। সুনীতাকে নিজের মনের কথা বোঝানোর শতচেষ্টা তিনি করেছেন বলে জানালেও, তাঁর বিশ্বাস এই মুহূর্তে স্ত্রী হয়তো তাঁর কথার সঠিক তাৎপর্য বুঝতে অপারগ। তাই জোর করে নিজের মতাদর্শ চাপিয়ে না দিয়ে সুনীতাকে কিছুটা সময় দিতে চান গোবিন্দা। স্ত্রীর প্রতি পুরনো ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি তাঁর সূক্ষ্ম অসন্তোষ এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সাক্ষাৎকারের একেবারে শেষ পর্যায়ে গোবিন্দা হুঙ্কার ছেড়ে জানান যে, যাঁরা তাঁর স্ত্রীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের সঙ্গে আপাতত সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে তিনি শান্ত থেকে গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান। তাঁর মতে, যাঁরা এই ধরনের নোংরা পরিস্থিতি তৈরি করছেন, তারা একদিন নিজের থেকেই ক্লান্ত হয়ে হার মানবেন। তখন তারা বুঝতে পারবেন যে তাঁর মতো মানুষের সঙ্গে অহেতুক সংঘাতে জড়ানো কতটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পাশাপাশি নিজের জীবনের কঠিন অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে পা-য়ে গুলি লাগার মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর এক পা হারানো ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার বিরাট অঙ্কের লোভনীয় প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন অভিনেতা। জীবনের বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও আত্মসম্মান বিকিয়ে না দিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকাটাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন গোবিন্দা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *