হানিট্র্যাপের ফাঁদে অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক! হোয়াটসঅ্যাপে দেশের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার

হানিট্র্যাপের শিকার হয়ে এক মহিলার কাছে ভারতীয় সেনায় গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত সংবেদনশীল গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত প্রাক্তন সেনাকর্মীর নাম বাবু (৫২)। তিনি তামিলনাড়ুর ভেলোর জেলার কিলভাল্লাম এলাকার বাসিন্দা। টানা ২৮ বছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর গত বছরই তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তবে অবসর গ্রহণের পর এক রহস্যময়ী মহিলার জালে জড়িয়ে পড়ে এভাবে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বেন, তা ভাবতেই পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (IB) সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সেনার ভেতরের নানা গোপন নথিপত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম সংক্রান্ত তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাচার হওয়ার খবর মিলছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ভেলোরের কিলভাল্লাম এলাকায় বাবুর বাড়িতে অভিযান চালায়। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে ভেলোর গ্রামীণ থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে টানা দুই দিন ধরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর ২৫ অক্টোবর রবিবার সকালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনীর ইকুইপমেন্ট ও সরঞ্জাম বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে সেনার ভেতরের নানা সূক্ষ্ম প্রযুক্তিগত বিষয় বাবুর জানা ছিল। অবসর নেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে চ্যাটিং ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই মহিলার পাতা হানিট্র্যাপের ফাঁদে পা দিয়ে বাবু সেনার স্পর্শকাতর বিষয়, সামরিক সরঞ্জাম ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত নানা তথ্য গোপন চ্যাটে শেয়ার করতে শুরু করেন।

শুধু নিজের জানা তথ্য দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি বাবু, অবসর নেওয়ার পরও তিনি প্রাক্তন আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সামরিক দপ্তরের সহকর্মীদের ফোন করতেন। সেখান থেকে কৌশলে এমন বহু গোপনীয় সামরিক তথ্য সংগ্রহ করতেন, যা তাঁর জানা ছিল না। সংগৃহীত সেই সমস্ত তথ্যও তিনি ভিডিও কল ও বার্তার মাধ্যমে ওই মহিলাকে পাঠাতেন। বাবুর এই সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পরই সতর্ক হন গোয়েন্দারা। বর্তমানে কানিয়ামবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করে ভেলোর গ্রামীণ পুলিশ এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। ওই রহস্যময়ী নারী আসলে কে এবং এই অনলাইন র‍্যাকেটের পেছনে কোন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *