ছাত্র আন্দোলনের ঝড়ে তছনছ ১৪ বছরের সাম্রাজ্য! সার্বিয়ায় পতন শক্তিশালী প্রেসিডেন্টের

বিশ্ব রাজনীতির চেনা সমীকরণগুলোকে এক লহমায় বদলে দিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। প্রশাসনিক দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার অভাব এবং শাসকদলের অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তেই মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে ছাত্র ও যুব আন্দোলন। তার এক সাম্প্রতিক এবং সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত তৈরি হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায়। টানা ১৪ বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষে থাকা শক্তিশালী নেতা আলেকজান্ডার ভুসিচ ছাত্র আন্দোলনের অভিঘাতে এক বড়সড় ধাক্কা খেলেন।গত ২৫ অক্টোবরের রোববার অনুষ্ঠিত সার্বিয়ার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘স্টুডেন্ট লিস্ট—স্টুডেন্টস উইন’।
প্রাথমিক গণনার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনে নিজের ও দলের শোচনীয় পরাজয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করে নিয়ে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচ ঘোষণা করেন, “আমরা নির্বাচনে হেরে গেছি, এটা স্পষ্ট। ছাত্রদের তালিকাই জয়লাভ করেছে”। মোট ২৫০ আসনের সার্বীয় সংসদে তরুণদের এই আন্দোলনপ্রসূত তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে চলেছে। অন্যদিকে, ২০১২ সাল থেকে একচ্ছত্র শক্তিতে রাজত্ব করা ভুসিচের ক্ষমতাসীন ‘সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি’ (SNS) চরম বিপর্যয় টেনে মাত্র ১০৫টি আসনেই থমকে যাচ্ছে।
সার্বিয়ার রাজনৈতিক পটভূমিতে এই বিশাল পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের নভেম্বরের এক মর্মান্তিক ঘটনা। নোভি সাদ শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশনের কনক্রিটের ছাউনি ভেঙে পড়ে ১৬ জন নিষ্পাপ মানুষের প্রাণ যায়। সেই ঘটনার পেছনে থাকা ব্যাপক সরকারি দুর্নীতি ও গাফিলতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে এই আন্দোলন দুর্নীতির প্রতিবাদ ছাড়িয়ে সর্বাত্মক সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর বাইবে গিয়ে ছাত্ররা সাধারণ নাগরিক, শিক্ষক, চিকিৎসক এবং পেশাদারদের নিয়ে নতুন এক গণচেতনার মঞ্চ তৈরি করেন। অবশেষে ব্যালট বাক্সে সেই জনক্ষোভের চূড়ান্ত প্রতিফলনে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ক্ষমতার পতন ঘটল। এখন নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, দুর্নীতি দমন ও দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে সুসংগঠিত করা।