‘আমরা এপারের, তাই কোজাগরী নয়!’-আজও একা হাতে লক্ষ্মীপুজো করেন অভিনেতা ভাস্বর?

টলিপাড়ায় জাঁকজমকপূর্ণ সেলিব্রেশন বা ইন্ডাস্ট্রির হেভিওয়েটদের ভিড়ভাট্টা ছাড়াই বহু বছর ধরে নিজের মতো করে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্মীপুজো করে আসছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। যদিও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর পরিবারে লক্ষ্মীপুজোর জাঁকজমক ও ঐতিহ্য বরাবরই বেশ আলাদা, তবুও ভাস্বর তাঁর নিজের ফ্ল্যাটে একেবারে ঘরোয়া ও সাদামাটা আয়োজনেই মা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন। তবে ছোট পরিসরে হলেও এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অভিনেতার আবেগ, আত্মত্যাগ এবং এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নিজের পুজোর কিছু সুন্দর মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। মা লক্ষ্মীর প্রতিমার সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে ভাস্বর লিখেছেন, “আমরা এপারের, তাই কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো আমাদের নেই। দীপান্বিতা লক্ষ্মী পুজোর চল আছে।”

কীভাবে শুরু এই পুজো? নেপথ্যে কোন লড়াই? এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতা জানান, তাঁরই ঐকান্তিক ইচ্ছায় ২০০১ সালে এই পুজো শুরু হয়েছিল। আর দেখতে দেখতে এ বছর তাঁর বাড়ির এই লক্ষ্মীপুজোর ২৫ বছর অর্থাৎ রজতজয়ন্তী পূর্ণ হল! মূলত তাঁর ঠাকুমা এই পুজোর সূত্রপাত করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঠাকুরদার প্রয়াণের জেরে পারিবারিক পুজো কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভাস্বরের উদ্যোগেই ফের নতুন করে শুরু হয় সেই পুজো। শুরুতে পুজোর সমস্ত আয়োজন ও দেখভাল করতেন অভিনেতার মা অপর্ণা চট্টোপাধ্যায়। মায়ের অবর্তমানে এখন সেই দায়িত্ব পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভাস্বর নিজেই।

অভিনেতা জানিয়েছেন, এই পুজোয় তিনিই পুরোহিত, তিনিই বাজার সরকার এবং তিনিই হোতা! অর্থাৎ পুজোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাবতীয় কাজকর্ম একাই সামলান তিনি। একটা সময় বাবা হাত লাগালেও এখন বয়সের ভারে তিনি মাটিতে বসে পুজো করতে পারেন না, তাই নিজেই পুরোহিতের ভূমিকাও পালন করেন ভাস্বর। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রচলিত নিয়মের বদলে এখানে ফল, মিষ্টি ও অন্নভোগ দিয়েই সাধারণ নিয়মে পুজো সারা হয়।

স্ট্রাগলের দিন থেকেই মা লক্ষ্মীর কৃপা: স্মৃতিচারণা করে ভাস্বর জানান, ২০০০-০১ সালের সময়টা তাঁদের পরিবারের ওপর দিয়ে অত্যন্ত কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যাচ্ছিল। তখন তিনি অভিনব জগতের চেনা মুখ তো ননই, উল্টে প্রাইভেট চাকরি করার পাশাপাশি টুকটাক অভিনয় ও স্ট্রাগল চালিয়ে যাচ্ছেন। চরম আর্থিক অনটন কাটিয়ে জীবনের মোড় ঘোরানোর আশাতেই ২০০১ সালে মা লক্ষ্মীর আরাধনা শুরু করেছিলেন তিনি। আর ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ২০০২ সালেই কালজয়ী ধারাবাহিক ‘জন্মভূমি’-তে সুযোগ পান অভিনেতা! তাঁর বিশ্বাস, এ সবই মা লক্ষ্মীর কৃপা।

এবারের পুজোতেও ইন্ডাস্ট্রির কাউকে আমন্ত্রণ জানাননি তিনি। কেবল পরিবারের কিছু সদস্য এবং বাবাকে সঙ্গে নিয়েই বাবা-ছেলের নিভৃত মিলনে সম্পন্ন হয়েছে এ বছরের লক্ষ্মীপুজো। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবারের মেয়ে নবমিতার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও ২০১৯ সালে সেই পথ আলাদা হয়ে যায়। প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ লক্ষ্মীপুজো হলেও, নিজের ছোট্ট ভুবনে একাই মা লক্ষ্মীকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *