“কথা না শুনলে মাফিয়াদের হুমকি!” ফাঁসির সাজা দেওয়া সেই বিচারপতির চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে উত্তাল যোগীরাজ্য

মাত্র ছয় মাসে ১১টি চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর জেলা আদালতের বিচারক রবিকুমার দিবাকর। ‘ডেথ জাজ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা ওই বিচারককে এবার এক ঝটকায় পারিবারিক আদালতে বদলি করল প্রশাসন। বিচারপতির এই বদলি এবং তাঁর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের বিচারব্যবস্থায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

কী ঘটেছিল মুজফফরনগর আদালতে?

বিচারক রবিকুমার দিবাকর গত ছয় মাসে ধারাবাহিকভাবে একাধিক কুখ্যাত খুনের মামলায় কঠোরতম সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। তাঁর এই নজিরবিহীন ও একের পর এক ফাঁসির রায় দেওয়ার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট ও এলাহাবাদ হাইকোর্টের নজরে আসে। হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করে এবং ওই বিচারকের এজলাসে বিচারাধীন থাকা বাকি ৯৭টি খুনের মামলা অন্য বিচারকদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়।

হাইকোর্টের এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারক দিবাকর। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে স্বাধীনভাবে বিচারকার্য চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের এক প্রতাপশালী মাফিয়া তাঁকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছিল যে, নিজের মতো না চললে তাঁর বদলি নিশ্চিত করা হবে। বিচারক সাফ জানান, তিনি সম্পূর্ণ আইন মেনেই অপরাধীদের শাস্তি দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে ন্যায়ের খাতিরে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতেও পিছপা হবেন না।

হাইকোর্টের সমালোচনা ও দ্রুত বদলি

প্রকাশ্যে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার ঠিক একদিনের মাথাতেই রবিকুমার দিবাকরকে মুজফফরনগর জেলা আদালত থেকে সরিয়ে পারিবারিক আদালতে বদলি করা হলো। নিয়ম অনুযায়ী, পারিবারিক আদালতে মূলত পারিবারিক কলহ বা আপস মীমাংসার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। খুন, চুরি বা ডাকাতির মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলার বিচার এই আদালতে হয় না।

বিচারপতির এই বদলি এবং মাফিয়ার হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় যোগীরাজ্যের বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *