১৫০ গ্রাম সোনা গায়েব করে কেনেন থার! কাকার ঘরেই মহা-চুরি, ১৯ বছরের ভাইপোর কাণ্ডে তাজ্জব কোলহাপুর

সাধের গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে মানুষ কত কী-ই না করেন! কিন্তু সেই শখ মেটাতে নিজের কাকার বাড়িতেই হানা দেওয়ার মতো দুস্পর্ধা দেখালেন মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের এক ১৯ বছরের যুবক। কাকার ঘর থেকে লাখ লাখ টাকার সোনা চুরি করে বিক্রি করে দিলেন বেধড়ক, আর সেই টাকায় কিনে ফেললেন ব্র্যান্ডেড সুদৃশ্য মহিন্দ্রা থার (SUV)! শুধু তা-ই নয়, নতুন গাড়ি কেনার পর ধুমধাম করে যে পুজোর আয়োজন করেছিলেন, তাতে সসম্মানে নিমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল সেই সর্বস্বান্ত কাকাকেই! তবে শেষরক্ষা হয়নি, পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন ওই চতুর ভাইপো।

গয়না চুরি থেকে ‘থার’ কেনা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম সমর চৌহান। তাঁর কাকা উমেশ মারুতি চৌহানের ঘর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রায় ১৫০ গ্রাম সোনার গয়না হাতিয়ে নেন তিনি। এরপর বাজারে সেই চুরি করা সোনা বিক্রি করে এক লপ্তে হাতে পান নগদ ১০ লক্ষ টাকা। কোনো দ্বিধা না রেখে সেই টাকা দিয়েই নিজের বহুদিনের পছন্দের একটি মহিন্দ্রা থার গাড়ি কিনে ফেলেন সমর।

গাড়ি কেনার আনন্দে বাড়িতেই জাকজমকপূর্ণ পুজো ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ১৯ বছরের ওই তরুণ। কাকা উমেশবাবু এবং তাঁর পরিবারকেও বেমালুম নিমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন সেই অনুষ্ঠানে। কিন্তু উৎসবের আনন্দের আবহেই নেমে আসে চরম বিপর্যয়।

কীভাবে ফাঁস হলো গোপন চুরির গল্প?

গাড়ির পুজোর তোড়জোড় চলাকালীনই উমেশবাবুর স্ত্রীর মনে হঠাৎ সন্দেহ দানা বাঁধে। তিনি সিন্দুক খুলে গচ্ছিত গয়নার হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখেন, অলংকার সব উধাও! মুহূর্তে মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে পরিবারের সদস্যদের। ঘরমধ্যে থাকা কাছের কেউই এই কাজ করেছে বুঝতে পেরে কালবিলম্ব না করে সোজা পুলিশের দরজায় কড়া নাড়েন উমেশবাবু।

অভিযোগ পেতেই কোলাহাপুর থানার পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তকারীদের প্রথম সন্দেহ গিয়ে পড়ে বেকার ও ১৯ বছরের যুবকের হঠাৎ কোটিপতিসুলভ বিলাসী জীবনযাপনের ওপর। কোনো স্থায়ী উপার্জন ছাড়া ১৯ বছরের তরুণের হাতে কীভাবে ১০ লক্ষ টাকার গাড়ি এল—এই প্রশ্ন থেকেই সমরকে ডেকে কড়া জেরা শুরু করে পুলিশ।

জেরার মুখে আর বেশিক্ষণ নিজের অপরাধ চেপে রাখতে পারেননি সমর। সমস্ত সত্যি স্বীকার করে নিয়ে জানান, কাকার বাড়ি থেকেই সোনা চুরি করে তা বিক্রি করেই কেনা হয়েছিল স্বপ্নের গাড়ি। পুলিশ অভিযুক্ত সমরকে গ্রেফতার করেছে এবং গয়না কেনা ব্যবসায়ীকেও আটক করেছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারও মদত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *