টাইগার শ্রফ কাণ্ডে বিরাট মোড়! মধ্যপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং গ্যাংস্টারদের হুমকির ঘটনায় গোটা চলচ্চিত্র শিল্পে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে, তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি পাঠিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (AICWA)। সংগঠনের হুঁশিয়ারি, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বলিউড তারকারা ভয়ে মুম্বাই ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে বাধ্য হবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে AICWA-এর চিঠি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লেখা ওই চিঠিতে এআইসিডব্লিউএ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের সাংস্কৃতিক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে বলিউড ও চলচ্চিত্র শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার উৎস এই শিল্প। কিন্তু বারবার শুটিংয়ে বাধা, ভয়ের পরিবেশ এবং নিরাপত্তার অভাব বজায় থাকলে তা সরাসরি ফিল্ম সেট, স্টুডিও এবং লগ্নিকারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যার জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ দৈনিক মজুরি শ্রমিকরা।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মুম্বইয়ের মতো একটি মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে যদি টাইগার শ্রফের মতো প্রথম সারির একজন তারকা নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ নাগরিকরা কীভাবে নিজেদের নিরাপদ ভাববেন? আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ে শিল্প জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যদি মুম্বই ছেড়ে চলে যান, তবে তা কেবল চলচ্চিত্র জগৎ নয়, বরং মুম্বই শহরের পরিচিতি এবং দেশের অর্থনীতিতে এক বড় ধাক্কা নামিয়ে আনবে।
ইন্দোর থেকে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার: অন্যদিকে, টাইগার শ্রফের ওপর গুলি চালানোর এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পাচ্ছে পুলিশ। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও ইন্দোর ক্রাইম ব্রাঞ্চের যৌথ অভিযানে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে ২২ বছরের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ধৃত ওই যুবকের নাম প্রাঞ্জল, বাড়ি হরিয়ানার সোনিপতে এবং পেশায় সে একজন ইঞ্জিনিয়ার।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রাঞ্জল গত কয়েকদিন আগে ইন্দোরে অসুস্থ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ সেখানে হানা দিয়ে তাকে আটক করে। এই হামলার ঘটনায় তাকে অস্ত্র সরবরাহ কিংবা কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে মুম্বই এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই এই ঘটনার আসল মাস্টারমাইন্ড ও নেপথ্যের রহস্য পুরোপুরি পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে পুলিশ।