Weather: লক্ষ্মীপুজোয় কি বৃষ্টি হবে বাংলায়? জানুন ২৩ জেলার আপডেট

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত ঘূর্ণাবর্ত থেকে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন নিম্নচাপ অঞ্চল। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে খুব শীঘ্রই এটি আরও শক্তি বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুজো, ঠিক এই আনন্দের আবহেই বাংলার ২৩ জেলার আবহাওয়া নিয়ে বড়সড় আপডেট দিল হাওয়া অফিস।

রবিবারের আবহাওয়া ও পুজোর আনন্দ

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবারের লক্ষ্মীপুজোর দিন বাংলার ২৩ জেলার কোথাও বৃষ্টির কোনও পূর্ব পূর্বাভাস নেই। ফলে উৎসবের দিনে আকাশ পরিষ্কার থাকায় সাধারণ মানুষ স্বস্তিতেই পুজো উপভোগ করতে পারবেন। তবে স্বস্তির এই মেঘ কাটতে সময় লাগবে না খুব একটা। কারণ বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়া এই সিস্টেমটি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এগোচ্ছে।

কবে এবং কোথায় আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’?

মৌসম ভবনের বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা নিম্নচাপটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমান্বয়ে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে সোমবারের মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বঙ্গোপসাগরে এই ঝড় মাথা তুললে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, এটি ২৮ অক্টোবর নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে স্থলভাগে বা ‘ল্যান্ডফল’ করতে পারে। প্রাথমিক ভাবে এর সরাসরি আঘাত বাংলায় না আসলেও, এর পরোক্ষ প্রভাব এড়ানো সম্ভব নয়।

বাংলায় কবে থেকে শুরু হবে দুর্যোগ?

ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র ও ওড়িশার দিকে এগোলেও তার প্রভাবে ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও ঝোড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আপাতত মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আবহাওয়ার মুড সুইং দেখা যেতে পারে। আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

মৎস্যজীবীদের জন্য কড়া সতর্কতা

সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় মঙ্গলবার থেকে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *