পঞ্জাবের লুধিয়ানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড! ঘরে ঢুকে হাত কেটে শরীর থেকে আলাদা করে দিল দুষ্কৃতীরা!

পঞ্জাবের শিল্পনগরী লুধিয়ানা থেকে একটি অত্যন্ত ভয়াবহ, নৃশংস ও রক্তহিম করা হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে, যা সমগ্র রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। লুধিয়ানার বিখ্যাত রেডু সাহিব গুরুদ্বারার ঠিক নিকটবর্তী একটি আবাসিক এলাকায় आपसी রঞ্জিশ বা পুরনো শত্রুতার জেরে কিছু দুষ্কৃতী সরাসরি একটি ঘরে ঢুকে পড়ে। সেখানে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী এক যুবকের ওপর অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। আক্রমণটি এতটাই বর্বরোচিত ছিল যে, ওই যুবকের একটি হাতের কবজি শরীর থেকে সম্পূর্ণ কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই যুবকের নাম শক্তি সিং ওরফে ভূরা, যিনি স্থানীয় বসন্ত নগরের বাসিন্দা। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীরা এক অবিশ্বাস্য ও পৈশাচিক কায়দায় যুবকের কাটা হাতটি একটি পলিথিনের খামে বা লিফাফায় ভরে স্থানীয় শতগুরু নগরের ৯ নম্বর গলির একটি মুদির দোকান অর্থাৎ ‘রানা করিয়ানা স্টোর’-এর কাউন্টারে ফেলে রেখে চম্পট দেয়। এই অভাবনীয় ও লোমহর্ষক ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান সংশ্লিষ্ট থানার এসএইচও (SHO) এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরা। পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, সকালে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে এই ভয়াবহ ঘটনার প্রথম তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে পুরনো কোনো পারস্পরিক বিরোধ বা গ্যাংওয়ার জাতীয় শত্রুতা। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিহত শক্তি সিং ওরফে ভূরা নিজেও একজন অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে অতীতে প্রায় ১২টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত ছিল। একইভাবে, যে সমস্ত দুষ্কৃতী বা অভিযুক্তরা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিল, তাদেরও একটি লম্বা অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও ঠিক সমসংখ্যক অর্থাৎ প্রায় ১২টি করে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন বা রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ফলে এটি দুটি কুখ্যাত অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যকার রক্তক্ষয়ী পুরনো দ্বন্দ্বের পরিণতি বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গুরুতর জখম অবস্থায় শক্তি সিংকে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই যুবক সাময়িকভাবে জ্ঞান ফিরে পেয়ে কিছুটা কথাবার্তাও বলেছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতা দ্রুত শুরু হয়েছে। লুধিয়ানা পুলিশের ফরেনসিক এবং তদন্তকারী দলগুলি ‘রানা করিয়ানা’ দোকান এবং তার আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের হাতে কাটা হাত নিয়ে দোকানে আসার দৃশ্য এবং তাদের গতিবিধি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। সেই ভিডিও ক্লিপিং এবং ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই পলাতক দুষ্কৃতীদের দ্রুত পাকড়াও করতে এবং পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে লুধিয়ানা পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *