১ নভেম্বরই কেন মহা-সমাবেশের জেদ? রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে শিখ ভাবাবেগে আঘাত হানার মারাত্মক অভিযোগ তুলল বিজেপি!

কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের পক্ষ থেকে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে একটি বিশাল ‘ভোট বাঁচাও-দেশ বাঁচাও’ মহারেলির আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রস্তাবিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে এক বিরাট বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) অন্যতম প্রবীণ ও শীর্ষ নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে এই নির্দিষ্ট তারিখ বেছে নেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন যে, এই দিনটি নির্বাচন করে রাহুল গান্ধী আসলে শিখ সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও গভীর ধর্মীয় অনুভূতির কথা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের ক্ষতস্থানে প্রলেপ দেওয়ার বদলে লবণ ছিটানোর চেষ্টা করছেন।
শনিবার আয়োজিত ওই প্রেস কনফারেন্সে বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, ১ নভেম্বর দিনটি শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও আবেগঘন দিন। কারণ এই দিনটিতেই মূলত ১৯৮৪ সালের কুখ্যাত ও বেদনাদায়ক শিখ-বিরোধী দাঙ্গা ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণ করা হয়। রবিশঙ্কর প্রসাদ সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, ঠিক কোন বিশেষ কারণে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব ওই নির্দিষ্ট দিনটিতেই মেগা র্যালি করার জন্য এমন একরোখা জেদ ধরে বসে আছেন? তিনি অভিযোগ করেন যে, যখন একটি গোটা সম্প্রদায় সেই ভয়াবহ ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে, ঠিক সেই সংবেদনশীল দিনে এই ধরনের রাজনৈতিক শো-ডাউন করা কেবল অপরিপক্কতাই নয়, বরং তা শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগকে চরমভাবে অপমান করার সামিল।
বিজেপির পক্ষ থেকে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক শরিক দল বা সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলিও রাহুল গান্ধীর এই ১ নভেম্বরের তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্তে একেবারেই সন্তুষ্ট ছিল না। এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অসন্তোষ মেটানোর জন্যই গত ২২ অক্টোবর একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক শরিক দল সেই বৈঠকে ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ দেয়নি, আবার কেউ কেউ সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিল যে র্যালির এই তারিখটি পরিবর্তন করে অন্য কোনো সুবিধাজনক দিনে করা হোক। কিন্তু সমস্ত আপত্তির পরেও রাহুল গান্ধী নাকি সেই তারিখ বদলাতে পরিষ্কার অস্বীকার করেছেন, যা নিয়ে জোটের ভেতরেই গভীর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ আরও আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “১ নভেম্বর হলো শিখদের নির্মমভাবে হত্যার দিন। রাহুল গান্ধী কি তবে ইচ্ছাকৃতভাবে শিখদের পুরনো দগদগে ঘায়ে নুন ছড়াতে চান?” তিনি আরও বলেন যে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদা শিখ সম্প্রদায়ের সুমহান ঐতিহ্য ও অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি করতারপুর সাহিব করিডোর চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এবং শিখ গুরু গোবিন্দ সিংজির দুই শাহজাদার অসামান্য আত্মত্যাগকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, রাহুল গান্ধীর এই একরোখা জেদ থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে সাধারণ মানুষের আবেগ বা সম্প্রদায়ের যন্ত্রণার প্রতি তাঁদের ন্যূনতম কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই।
এর পাশাপাশি, কংগ্রেসের বৈদেশিক নীতি ও রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক মানসিকতা নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি অভিযোগ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় গিয়ে শিখদের পাগড়ি বা কড়া পরা নিয়ে নানা কথা বললেও কাজের বেলায় কংগ্রেস নেতৃত্ব শিখদের আবেগ বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এমনকি স্যাম পিত্রোদার অতীতে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্য ‘১৯৮৪-এর কথা বারবার কেন তোলো, যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে’—সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। রবিশঙ্কর প্রসাদ দাবি করেন যে, দিল্লির ঐতিহাসিক চাঁদনি চক বা সদার বাজারের মতো উত্তর ভারতের প্রধান পাইকারি বাজারগুলির ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনগুলি চিঠি লিখে ১ নভেম্বরের এই রাজনৈতিক সমাবেশ স্থগিত বা স্থানান্তরিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ উৎসবের মরশুমে এই ধরনের বিশাল জমায়েতের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়বেন। কিন্তু জনগণের সেই যৌক্তিক দাবিও কংগ্রেস কানে তুলছে না। সবমিলিয়ে, রাহুল গান্ধীর এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে এক চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে তোপ দেগেছে বিজেপি শিবির।