শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রূপ নিল ভয়ঙ্কর দাঙ্গায়! ১২০০ জনকে গ্রেফতার, ফ্রান্সে কড়া অবস্থান নিলেন ইমানুয়েল মাকরঁ

ঠিক যেন রণক্ষেত্র! ফ্রান্সের রাজপথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহর এই মুহূর্তে জ্বলছে হিংসার আগুনে। প্রথমে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জনপরিষেবার মান নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ এখন ভয়াবহ দাঙ্গার রূপ নিয়েছে। প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ-র মতো বড় শহরগুলিতে ব্যাপক লুটপাট, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ইতিমধ্যেই আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন পুলিশকর্মী।

ঠিক কী পরিস্থিতি ফ্রান্সে?

ফরাসি সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আচমকাই বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালানোর পাশাপাশি পরপর বিলাসবহুল দোকান এবং সুপারমার্কেটে অবাধে লুটপাট চালিয়েছে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং খোদ পুলিশকর্মীদের ওপরেও হামলা চালানো হয়েছে। মার্সেই শহরে কালো পোশাক পরা বিক্ষোভকারীরা সরাসরি সিটি হলে ঢুকে পড়ে ভবনের দেওয়ালে নৈরাজ্যবাদী স্লোগান ও গ্রাফিতি লেখে। অন্যদিকে, লিয়ঁ শহরে দাঙ্গাকারীরা একটি পর্যটন দফতরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু (Sebastien Lecornu) জানিয়েছেন, দেশজুড়ে হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে দাঙ্গায় বিধ্বস্ত বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ (Laurent Nunez) জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যদিও শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-র (CGT) দাবি এই সংখ্যাটা প্রায় আট লক্ষ।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও সরকারের কড়া বার্তা

আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ঠিক তার আগেই দেশজুড়ে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই হিংসার কাছে সরকার মাথা নত করবে না। এই অশান্তির নেপথ্যে অতি-বামপন্থী গোষ্ঠী এবং অপরাধীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এক্স (X) হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, যারা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই হিংসাকে প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, তাদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে—সরকার ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবে না। অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ (Emmanuel Macron) এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ছড়ায় এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে গোটা দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *