বিস্কুটে পশুর খাদ্য আর কিশমিশে মারাত্মক কীটনাশক! দেশের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ FSSAI-এর

জনপ্রিয় প্রিয়াগোল্ড বিস্কুটে ফাইবারের উৎস হিসেবে গবাদি পশুর খাদ্যের ভুসি! শুধু তাই নয়, দোদলা ডেয়ারির দুধে ডিটারজেন্ট ও কস্টিক সোডা এবং ইউইআইআর অর্গানিক ফুডসের হলুদ কিশমিশে বিষাক্ত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। খাদ্য সুরক্ষার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে এবার এই তিনটি নামী সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করল ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (FSSAI)।
শনিবার খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির তরফে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা ও পরিদর্শনের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। FSSAI-এর অনুসন্ধানে যে সমস্ত ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে তা হল:
-
প্রিয়াগোল্ড বিস্কুট: স্বাস্থ্যকর ফাইবারের উৎস দাবির আড়ালে বিস্কুট তৈরিতে গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য নির্ধারিত কাঁচামাল বা ভুসি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
-
দোদলা ডেয়ারি: দৈনন্দিন ব্যবহৃত এই দুধের মধ্যে ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট এবং কস্টিক সোডার মতো বিপজ্জনক উপাদানের উপস্থিতি মিলেছে।
-
ইউইআইআর অর্গানিক ফুডস: স্বাস্থ্যসম্মত দাবি করা হলুদ কিশমিশের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকারক কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ।
এছাড়াও, অন্য একটি পৃথক অভিযানে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং লাইসেন্সিং সংক্রান্ত নানা অসঙ্গতির কারণে নারপাধাম ফুডস, সান রিজেস হেলথ কেয়ারার্স এবং মেসার্স শাকান্তিলাল জয়ন্তিলাল-এর মতো সংস্থাকেও নোটিশ পাঠিয়েছে ফুড রেগুলেটর।
FSSAI স্পষ্ট জানিয়েছে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আইনি পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে আদালত ইতিমধ্যেই কোম্পানিগুলোকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।