সাঁতার জানেন না, পুলের জলে ফেলে মারার চেষ্টা! জিতুর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন মনামীর মা

বাঙালির অত্যন্ত পরিচিত মুখ মনামী ঘোষ এখন খবরের শিরোনামে রয়েছেন জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো বিগ বসের ঘরে তাঁর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে। শোয়ের অন্দরমহলে যেভাবে তাঁর ওপর একের পর এক আক্রমণ নেমে আসছে, তা নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন তাঁর মা তমশা ঘোষ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খেলার ছলে কোণঠাসা করা হচ্ছে মনামীকে।

তমশা দেবী জানান, বাড়িতে মনামী সেভাবে ঘরের কোনো কাজ না করলেও, বিগ বসের ঘরের রান্না থেকে বাসন মাজা—সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। মেয়ের এই রূপ দেখে তিনি যেমন আবেগপ্রবণ হয়েছেন, তেমনই গর্বিতও বটে। তবে এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি শোয়ের অন্যান্য প্রতিযোগীদের আক্রমণ নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে অভিনেতা জিতু কমলের বিরুদ্ধে তিনি মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন।

তাঁর দাবি, কিছুদিন আগে একটি টাস্ক চলাকালীন মনামীকে ঘোড়ার মতো ধরে টেনে পুলের জলের মধ্যে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন জিতু। মনামী সাঁতার জানেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন জিতু তাঁকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। যদিও সেবার ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়েছিল, তবে পিরামিড ভাঙার টাস্কে পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করে। নিয়মের তোয়াক্কা না করে জিতু সরাসরি বল দিয়ে মনামীর মুখ, কান ও পিঠে আঘাত করতে থাকেন। এই নৃশংস মারধরের কারণে বরফ দিয়ে সেঁক দিতে হয়েছিল।

ক্ষোভে ফেটে পড়ে তমশা দেবী বলেন, জিতু কমল একজন খুনি এবং তাঁকে অবিলম্বে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো উচিত। তিনি আরও বলেন যে, মনামীর মুখ ও চোখ নষ্ট করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছিল, যাতে সে আর খেলায় টিকে থাকতে না পারে। শোয়ের এই অমানবিক পরিস্থিতিতেও বিগ বস কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

জিতু ছাড়াও ঘরের অন্য প্রতিযোগীদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, মনামী শক্তিশালী প্রতিযোগী বলেই বাকিরা তাঁকে ভয় পায়। রাজবীর পুরোপুরি জিতুর কথায় চলছে এবং ভরত কলও টিকে থাকার লড়াইয়ে মনামী বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে আগামী উইকেন্ডে দাদার দরবারে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশাবাদী। সমস্ত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তাঁর মেয়ে যেন শেষ পর্যন্ত লড়ে ট্রফি ঘরে তোলে, সেই প্রার্থনাই করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *