“২৮ জন ডাক্তার, ৫ জন আইএএস!”-জেনেনিন জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে-জামাই কী করেন?

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খবরের শিরোনামে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে তাঁর পদত্যাগ চেয়ে যখন দেশের তরুণ প্রজন্ম ও বিরোধী শিবির পথে নেমেছে, ঠিক তখনই সামনে এল এই হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির পরিবারের চমকপ্রদ তথ্য। দেশের অন্যতম শিক্ষিত ও প্রভাবশালী পরিবারগুলির তালিকা তৈরি করলে যে কটি নাম একদম ওপরের সারিতে থাকবে, তার মধ্যে অন্যতম জ্ঞানেশ কুমারের পরিবার।
কেরালা ক্যাডারের ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার জ্ঞানেশ কুমার নিজে কানপুর আইআইটি (IIT)-এর প্রাক্তনী। শুধু তিনি একা নন, তাঁর গোটা পরিবার যেন সাফল্যের এক অনন্য প্রতিমূর্তি। পরিবারে রয়েছে ২৮ জন ডাক্তার, ৫ জন আইএএস, এবং একাধিক আইআরএস ও আইপিএস অফিসার। যাঁর বিরুদ্ধে আজ ভোটচুরির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে, তাঁর পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং কেরিয়ারের সাফল্য সত্যিই অবাক করার মতো।
মেধা থেকে জামাই— সবাই প্রথম সারির আমলা: সম্প্রতি জ্ঞানেশ কুমারের বড় মেয়ে আইএএস মেধা রূপমকে নিয়েও চর্চা কম হয়নি। দিল্লির ঐতিহ্যবাহী সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক পাশ করার পর, ২০১৪ সালের ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় সারা ভারতে দশম স্থান অধিকার করেছিলেন মেধা। শুধু প্রশাসনিক দক্ষতাই নয়, তিনি একজন দক্ষ শুটিং চ্যাম্পিয়নও বটে এবং রাজ্য স্তরে তাঁর রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে তিনি উত্তরপ্রদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা নয়ডার জেলাশাসক (DM) হিসেবে কর্মরত।
মেধার স্বামী অর্থাৎ জ্ঞানেশ কুমারের বড় জামাই মণীশ বনসলও ২০১৪ ব্যাচেরই আইএএস অফিসার। আইআইটি দিল্লি থেকে বিটেক ও এমটেক ডিগ্রি অর্জনের পর ইউপিএসসিতে ৫৩তম স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি। ট্রেনিংয়ের সময়ই মেধা ও মণীশের পরিচয় হয়। বর্তমানে মণীশ আগ্রার জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
পিছিয়ে নেই ছোট মেয়ে অভিশ্রীও। তিনিও সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকেই পড়াশোনা শেষ করে ২০১৭ ব্যাচে আইআরএস (IRS) হন এবং বর্তমানে আয়কর বিভাগের সহকারী কমিশনার পদে আছেন। অভশ্রীর স্বামী অক্ষয় লাবরু ২০১৬ ব্যাচের আইএএস অফিসার। তিনি বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা শ্রীনগরের জেলাশাসক তথা ডেপুটি কমিশনার হিসেবে কর্মরত।
পুরো পরিবারটাই যেন ‘অ্যাচিভার্স জোন’: জ্ঞানেশ কুমারের নিজস্ব পারিবারিক শেকড়ও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাঁর বাবা প্রয়াত সুবোধ গুপ্তা উত্তরপ্রদেশ স্বাস্থ্য বিভাগের সিএমওএইচ (CMOH) ছিলেন এবং মা সত্যবতী গুপ্তা আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জ্ঞানেশের ভাই মণীশ কুমার আইআরএস অফিসার, বোন রোলি ইন্দোরে একটি স্কুল পরিচালনা করেন এবং ভগ্নিপতি উপেন্দ্র জৈন মধ্যপ্রদেশ পুলিশের এডিজি (ADG) র্যাঙ্কের আইপিএস অফিসার। সব মিলিয়ে, এক ব্যতিক্রমী এবং উচ্চশিক্ষিত পরিবারের কর্তা হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের এই পরিচয় এই মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।