“বাংলাদেশে যেভাবে সরকার বদল হয়েছিল, ভারতেও সেই ষড়যন্ত্র!” রাহুল গান্ধীকে নিয়ে বিস্ফোরক রাজনাথ সিং!

বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোট এবং বিতর্কিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির আন্দোলনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চড়ল উত্তাপ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। জোরালো হুংকার দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের সংবিধান নাগরিকদের প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চয়ই প্রদান করে, তবে সেই অধিকারকে পুঁজি করে কেউ যদি দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

শুক্রবার লখনউয়ে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে চরম নিশানা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সরাসরি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে কংগ্রেস। সমাজবাদী পার্টির দয়া ও সমর্থন ছাড়া রায়বরেলিতে নিজের সংসদীয় আসনটি ধরে রাখার ন্যূনতম রাজনৈতিক ক্ষমতা কি আদৌ রাহুল গান্ধীর রয়েছে?” কংগ্রেসের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও নির্ভরতা নিয়ে এই মন্তব্যের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়ে গেছে।

এদিন তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তীব্র সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন রাজনাথ সিং। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, দেশের যুবসমাজকে বর্তমান বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরির জন্য একপ্রকার দাবার ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহার করার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত চলছে। আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রতিবেশী দেশের উদাহরণ টেনে বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, “ঠিক যেভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে সরকারের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছিল, আজ এই দেশ ভারতের অন্দরেও ঠিক একই রকম অপচেষ্টা ও গভীর ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।”

এই প্রসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আন্দোলনকে খতম করতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, তাদের এই তথাকথিত আন্দোলন আদতে কোনো সাধারণ নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে নয়। এমনকি এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বা অন্য কোনো প্রশাসনিক নীতিরও কোনো সম্পর্ক নেই। দেশের তরুণ প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার মহান ব্রত নিয়েও এই আন্দোলন করা হচ্ছে না। বরং এর আসল উদ্দেশ্য হলো—দেশে সুপরিকল্পিতভাবে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পেছন থেকে ক্ষমতা দখলের এক গোপন ও বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা।

ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী অতীতে যে সমস্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন, এদিন তারও কড়া জবাব দিয়েছেন সিনিয়র বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীতে রাহুল গান্ধী জনসভায় দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন যে সত্তর বছরের একজন বৃদ্ধা মহিলা নাকি দ্বৈত ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন! আবার অন্য একটি জনসভায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে পঁয়ত্রিশ বছরের এক মহিলা নাকি একশো চব্বিশ বছরের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত আছেন! এভাবে কখনও কখনও দেশের সাধারণ সম্মানিত নাগরিকদের ভুয়া বা জালিয়াতির ভোটার বলে চিহ্নিত করে তাঁদের অযথা জনসমক্ষে সম্মানহানির নিম্নমানের অপচেষ্টাও তিনি করেছেন।

শেষে নিজের বক্তব্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন রাজনাথ সিং। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টি বা এনডিএ জোটের নেতারা কখনোই দেশের কোনো সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। দেশের সুদীর্ঘ নির্বাচনী পরিকাঠামো নিয়ে তারা কখনও কোনো অবমূল্যায়ন করেননি কিংবা সাংবিধানিক নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার নোংরা রাজনীতি করেননি। দেশবাসী, সংবিধান এবং দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সর্বদা সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে সম্মান জানিয়ে এসেছে শাসকদল—এমনটাই মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *