পঞ্চমীর রাতে বিশাল অঘটন! বেতন না পাওয়ায় ফুটবলারদের প্র্যাকটিস বয়কট, তুলকালাম ইস্টবেঙ্গলে!

উৎসবের আবহেই লাল-হলুদ সমর্থকদের চিন্তার ভাঁজ ফেলে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে তৈরি হয়েছিল এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। বকেয়া বেতনের দাবিতে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির ফুটবলাররা আচমকাই প্র্যাকটিস বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন। নির্ধারিত সময়ে চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ফুটবলাররা মাঠে নেমে অনুশীলন করতে সাফ অস্বীকার করেন। আইএসএল অভিযান শুরু করার ঠিক মুখেই এমন অভূতপূর্ব অচলাবস্থায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়ে যায় লাল-হলুদ তাঁবুতে। তবে কর্তাদের তৎপরতায় অবশেষে কেটেছে সেই জটিলতা এবং মাঠে ফিরেছেন ফুটবলাররা।
চলতি মরসুমে মাঠের পারফরম্যান্সে লাল-হলুদকে বেশ উজ্জ্বল দেখা গেলেও পর্দার অন্তরালে স্পনসর সমস্যা দলকে ক্রমাগত অস্বস্তিতে ফেলেছে। আইএসএলের গত মরসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন কোনো স্থায়ী স্পনসর খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে এই আর্থিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে তার প্রভাব পড়তে দেননি ফুটবলাররা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে হারিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ক্লাবের ট্রফি ক্যাবিনেটে নতুন পালক যুক্ত করেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ভিতরের আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা যে পুরোপুরি দূর হয়নি, পঞ্চমীর অনুশীলন বয়কটের ঘটনায় তা এক লহমায় প্রকাশ্যে চলে আসে।
ক্লাব সূত্রের খবর, অনুশীলনে যোগ না দেওয়ার ঘটনা নিয়ে দিনভর তুমুল নাটক চলার পর অবশেষে বিকেল গড়াতেই মিটে যায় পুরো সমস্যাটি। জানা গিয়েছে, ক্লাবের হাতে ফুটবলারদের বকেয়া মেটানোর জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা প্রস্তুত থাকলেও ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত এক জটিল সমস্যার কারণে সেই অর্থ ফুটবলারদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি অনুধাবন করার পরই ইস্টবেঙ্গল কর্তারা দ্রুত যে ব্যাংকে ক্লাবের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানে সশরীরে গিয়ে সমস্ত প্রযুক্তিগত বাধা দূর করেন। সমস্ত বকেয়া বেতন সোজাসুজি ফুটবলারদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতেই মানভঞ্জন হয় ফুটবলারদের এবং তাঁরা মাঠে নামতে রাজি হন।
সম্প্রতি হাবাসের কোচিংয়ে চমৎকার ফুটবল উপহার দিচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। শক্তিশালী এসিএল টু-এর ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও ৩-২ গোলে হারতে হলেও দলের সামগ্রিক লড়াই প্রশংসিত হয়েছে। তবে হাতের কাছে পাওয়া আইএফএ শিল্ড হাতছাড়া হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ থেকেই গিয়েছে। আগামী রবিবার চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে আইএসএলের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে ইস্টবেঙ্গল। এই মেগা ম্যাচের ঠিক আগেই ক্লাবের ভেতরে এমন অনভিপ্রেত আর্থিক গোলমাল ম্যানেজমেন্টের ওপর মানসিক চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল। হাবাস নিজেই এই মরসুমে আইএসএল ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে দলকে তৈরি করছেন, তাই ফুটবলারদের মনোসংযোগে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে নজর রাখা জরুরি ছিল। এই পর্বের মতো বেতন-জট মিটলেও ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নতুন স্পনসর ছাড়া আগামী দিনে ফের যদি এমন সমস্যা দেখা দেয়, তবে কীভাবে তা সামাল দেবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ?