পুজোয় পকেটে উপচে পড়বে টাকা! রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন নিয়ে এল বিরাট সুখবর

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর এই সমস্ত উৎসবের মধ্যে মুকুটমণি হলো শারদোৎসব বা দুর্গাপুজো। মা দুর্গা মর্ত্যে আসেন মাত্র হাতে গোনা কটি দিনের জন্য। আর এই বিশেষ দিন কটির অপেক্ষায় সারা বছর ধরে মুখিয়ে থাকেন আপামর বাঙালি। পঞ্জিকার নিয়ম মেনে আজ মহাষষ্ঠী। শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের কাউন্টডাউন। মণ্ডপে মণ্ডপে ইতিমধ্যেই বেজে উঠেছে ঢাকের বাদ্যি, চন্দন কাঠ আর ধুনুচির গন্ধে ম্মাৎময় হয়ে উঠেছে চারপাশ। এই আনন্দঘন ও উৎসবের আবহে বাংলার রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একের পর এক দারুণ সুখবর সামনে আসছে, যা তাঁদের খুশির মাত্রাকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।
উৎসবের মরশুমের ঠিক প্রাক্কালেই সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে মোটা অঙ্কের বাড়তি টাকা। সম্প্রতি ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ পাওয়ার সুবাদে কর্মচারীদের পকেট এখন বেশ ভারী। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সপ্তম পে কমিশন বা নতুন বেতন কমিশন গঠন নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এল। পুজো ও ছুটির মেজাজের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন সংক্রান্ত সরকারি তৎপরতা তীব্রতর হয়েছে, যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে রাজ্যজুড়ে।
নতুন বেতন কমিশন কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার লক্ষ্যে নতুন পে কমিশনের প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই বেতন কমিশনের পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে এবার সম্পূর্ণ দফতরভিত্তিক ডিজিটাল বা অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে—এবার সংশ্লিষ্ট কমিশন রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধীনস্থ বিভিন্ন পদ, বিভিন্ন ক্যাডার, পরিসেবা এবং কর্মরত কর্মীদের সম্পর্কে অত্যন্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। কর্মচারীদের বর্তমান বেতনক্রম এবং সার্বিক ভাতা কাঠামো খতিয়ে দেখে কমিশন সরকারের কাছে তাদের সুচিন্তিত সুপারিশ পেশ করবে। পাশাপাশি, নতুন পে কমিশন গঠনের মূল প্রস্তাবের পার্ট এ এবং পার্ট বি অংশে যে সমস্ত কর্মী ও সংস্থার সুনির্দিষ্ট উল্লেখ রয়েছে, তাদের বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
উৎসবের এই আনন্দমুখর দিনে সরকারের এমন পদক্ষেপে সরকারি মহলে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গাপুজোর ঠিক মুখে এই ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ এবং আর্থিক স্বস্তির খবর কর্মচারীদের মনে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে। একদিকে পকেটে বাড়তি ডিএ এবং অন্যদিকে নতুন পে কমিশন গঠনের দপ্তরে দপ্তরে তথ্য সংগ্রহের তোড়জোড়—সব মিলিয়ে চলতি পুজোয় বাংলার সরকারি কর্মচারীদের আনন্দ যে বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন সকলের নজর রয়েছে পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপ এবং পে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে।