তেরঙা যাত্রায় চরম সংঘাত! কনট প্লেসে সিজেপি-র মিছিল ঘিরে কড়া অবস্থান নিল দিল্লি পুলিশ!

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র প্রস্তাবিত প্রস্তাবিত তেরঙা যাত্রা ঘিরে বর্তমানে চরম উত্তেজনা ও কড়া অবস্থান নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার কনট প্লেসের ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপি-র তরফে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার ঠিক আগেই নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল ​​কাউন্সিল (NDMC) এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আইন অমান্য করার মতো কোনো বেআইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১৫ অক্টোবরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে পুরসংস্থা জানিয়েছে, প্রশাসনিক এবং অনিবার্য নিরাপত্তার কারণে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এই দুদিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সিজেপি-র এই কর্মসূচির সময় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ছোট জমায়েত করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার সীমিত অনুমতি বিবেচনা করা হতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশ বিক্ষোভকারী ও সাধারণ জনগণের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছে, তারা যেন এমন কোনো জমায়েতে অংশ না নেন যা বর্তমানে কার্যকর থাকা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা কঠোর নির্দেশাবলী লঙ্ঘন করে।

দিল্লি পুলিশ আরও সতর্ক করে জানিয়েছে যে, যারা সরকারের এই নির্দেশ অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ থেকে সকল পক্ষকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এমন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যাবে না যা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও দোকানদারদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।” দিল্লি পুলিশের ডিসি (পিআরও) নেহা যাদব জানিয়েছেন, পুলিশ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থানে অল্প সংখ্যক ব্যক্তিকে জাতীয় পতাকা বহন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার উদ্দেশ্যে জমায়েত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই প্রস্তাবিত জমায়েতের কারণে কনট প্লেস ও তার আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে আগেই সতর্কতা জারি করেছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ। যাত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন সেই অনুযায়ী নিজেদের যাত্রাপথ পরিকল্পনা করেন এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বুধবার সিজেপি ঘোষণা করেছিল যে, শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় তারা কনট প্লেসের ইনার সার্কেলের পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে প্রতিবাদ মিছিল করবে। যদিও এনডিএমসি আগেই পার্কটি বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশিকা জারি করে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সাধারণ মানুষকে জাতীয় পতাকা হাতে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যেন মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হন, কারণ ভোটাধিকার রক্ষা না-হলে দেশের গণতন্ত্রও বিপন্ন হবে। প্রসঙ্গত, সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতারে রেশ কাটতে না কাটতেই এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। এর আগে তাঁরা যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র স্লোগান দিয়েছিলেন, যার জেরে তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠানো হয়েছিল।

পুলিশ আধিকারিকদের কঠোর দাবি, যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কনট প্লেস ও তার সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা কর্মী ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং বিক্ষোভকারী সহ সাধারণ মানুষের চলাচলও কড়া নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা সাফ জানিয়েছেন, কনট প্লেস কখনোই বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত কোনো স্থান নয়। তাঁর মতে, যন্তর মন্তরকে এখন আর বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য অনুমোদিত স্থান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। বিক্ষোভকারীরা প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি গ্রাউন্ড বা সিবিডি গ্রাউন্ডে গিয়ে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *