মাসের শেষেই বিশেষ সংসদ অধিবেশন? কোন মেগা বিল পাশ করাতে মাস্টারস্ট্রোক কেন্দ্রের?

চলতি মাসের শেষেই সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবির আবহে এই বিশেষ অধিবেশন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। মূলত লোকসভা ও রাজ্যসভায় থমকে থাকা ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং বহুল প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ বিল পুনরায় পেশ করা এবং তা পাস করানোই এই বিশেষ অধিবেশনের মূল এজেন্ডা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র মারফত
জানা গিয়েছে যে, এই বিলগুলি নিয়ে এবার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শাসক শিবির।সূত্রের খবর, বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করার অন্তত এক সপ্তাহ আগে সরকারিভাবে নোটিস জারি করা হতে পারে। সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে এই প্রস্তাবগুলি পাস করানোর জন্য সংসদের উভয় কক্ষেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তথা দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। এর আগে বাজেট অধিবেশনের সময় এই বিলগুলি লোকসভায় পেশ করা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যার অভাবে তা পাস করানো সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও পরিস্থতিতে কেন্দ্রের পক্ষে সংখ্যাতত্ত্বের সমীকরণ অনেকটাই অনুকূলে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এনডিএ জোটে নতুন কিছু সাংসদের সমর্থন যুক্ত হওয়ায় এবং শাসক জোটের আসন বিন্যাস পোক্ত হওয়ায় এবার আর হোঁচট খেতে হবে না বলেই মনে করছে কেন্দ্র।
পাশাপাশি, বিরোধী শিবিরের অন্দরে ভাঙন এবং আঞ্চলিক দলগুলির অবস্থান বদলও কেন্দ্রের কাজ কিছুটা সহজ করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডিএমকে এবং কংগ্রেসের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও জোট ভাঙার পর কেন্দ্রের নজর এখন দক্ষিণের এই প্রভাবশালী দলের ২২ জন সাংসদের সমর্থনের দিকে। তামিলনাড়ু রাজনীতি ও নির্বাচনে ডিএমকে-কংগ্রেস সমীকরণে বদল আসায় কেন্দ্র এই বিশেষ বিলের পক্ষে ডিএমকে-র সমর্থন আদায়ের জোরালো কসরত শুরু করেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে শাসক জোট। সব মিলিয়ে, চলতি মাসের শেষেই এই বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা দুটি মেগা বিল পাস করিয়ে নিতে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চলেছে কেন্দ্র, এখন সেটাই দেখার বিষয়।