“হিন্দুধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করলে…?”-সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে তোলপাড় দেশ

ধর্ম পরিবর্তনের পর যাঁরা জাতিগত সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করছিলেন, তাঁদের জন্য এল এক বড় ধাক্কা। ধর্মান্তরিত হলে সংরক্ষণের সুবিধা আর পাওয়া যাবে না— একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনই ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে সংবিধান অনুযায়ী কোনও ধরনের সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করা যাবে না।
এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাজ হাইকোর্টের সেই আদেশকেই বহাল রাখল, যার মাধ্যমে তামিলনাড়ু সরকারের একটি নির্দেশিকাকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। ওই সরকারি আদেশে বলা হয়েছিল, অনগ্রসর শ্রেণি (BC), অতি অনগ্রসর শ্রেণী (MBC) এবং তফসিলি জাতির (SC) অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর ‘অনগ্রসর শ্রেণির মুসলিম’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারবেন।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থা ছেড়ে কোনও ব্যক্তি যদি অন্য কোনও ধর্মে ধর্মান্তরিত হন, তবে ধর্মান্তরের আগের সামাজিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে তিনি সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারেন না।
আদালতের মতে, পূর্ববর্তী সামাজিক ব্যবস্থার জাতিগত অনগ্রসরতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ধর্মে স্থানান্তরিত হয় না। ফলে নতুন ধর্মে গিয়ে ‘অনগ্রসর শ্রেণি’র মর্যাদা দেওয়া বা দাবি করা সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবিধানের উল্লেখ করে আদালতের যুক্তি:
সুপ্রিম কোর্ট সংবিধান (তফসিলি জাতি) আদেশ, ১৯৫০-এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলে যে, যে ব্যক্তি হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ব্যতীত অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করেন, তাঁকে তফসিলি জাতির সদস্য বলে গণ্য করা যাবে না।
ফলে কোনও ব্যক্তি যদি অন্য কোনও ধর্মে ধর্মান্তরিত হন, তবে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী তফসিলি জাতির মর্যাদা হারাবেন। এর ফলে সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে অনগ্রসর শ্রেণি বা তফসিলি জাতির ভিত্তিতে পাওয়া যাবতীয় সরকারি সুবিধা ও সংরক্ষণের অধিকারও তিনি আর দাবি করতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সাংবিধানিক নীতি মেনেই তামিলনাড়ু সরকারের আবেদনটি খারিজ করা হলো।