ফ্লাইওভারে ‘রংধনু’ আঁকতেই বিপত্তি! চরম বিতর্কের মুখে তড়িঘড়ি রঙ তোলার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

পুজোর আগে শহরজুড়ে সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা মারাত্মক বুমেরাং হয়ে দাঁড়াল। চিংড়িহাটা ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে গড়িয়াহাট ব্রিজের পিচে ‘রংধনু’ বা রামধনু রঙ করার পর থেকেই শহরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। বৃষ্টির দিনে এই বিশেষ রঙের ওপর বাইকের চাকা স্লিপ করে একের পর এক মোটরবাইক চালক দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়ার পর এবার নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার থেকে সেই বিতর্কিত রং তুলে ফেলার কাজ শুরু হওয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

কুণাল ঘোষের তোপ ও মুছিয়ে দেওয়ার কাজ: বৃহস্পতিবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, পুরসভার একটি অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে গড়িয়াহাট ব্রিজের পিচ থেকে জোরকদমে সেই রংধনু রং ঘষে ঘষে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওর ক্যাপশনে কুণাল লিখেছেন, “অবৈজ্ঞানিক বিপজ্জনক রং যদি তুলতেই হয়, ছেলেমানুষি করে লাগালেন কেন? দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? কাদের টাকার শ্রাদ্ধ হল? চিংড়িহাটার দুর্ঘটনার পর গড়িয়াহাটের রং তোলার ছবি থেকে যাক।”

উল্লেখ্য, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উদ্যোগে এই সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে চিংড়িহাটার উড়ালপুলে পরপর বাইক দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রথমে চিংড়িহাটা ফ্লাইওভারে হলুদ রঙের ফাইবার ব্লক বসানো হলেও, গড়িয়াহাট ব্রিজের ক্ষেত্রে রঙ মুছে ফেলার পথেই হাঁটল প্রশাসন।

কী সাফাই মন্ত্রীর? চিংড়িহাটার দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেছিলেন যে, সেখানে সাধারণ তেল রং নয়, বরং ‘অ্যান্টি স্কিড’ বা পিছলে না যাওয়ার মতো বিশেষ রংই ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর দাবি ছিল, রংটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু তা সত্ত্বেও কীভাবে বারবার চাকা স্কিড করছে, তা কেবল ইঞ্জিনিয়াররাই বলতে পারবেন।

প্রভাব পড়ল আসানসোলেও: কলকাতার এই ঘটনার জেরে শিক্ষা নিয়ে এবার কড়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে আসানসোলেও। কলকাতার মতো সেখানেও যাতে কোনও অনভিপ্রেত দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই আশঙ্কায় শহরের শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের চারপাশে রাস্তা সৌন্দর্যায়নের জন্য সদ্য করা রং তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট রং প্রস্তুতকারী সংস্থা। পুজোর মুখে সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকেই যে সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, এই পদক্ষেপে সেটাই স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *