ভিভিয়ান হত্যা মামলা: আদালতের দিকে নজর! জেলবন্দি ছেলের কাছ থেকে ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আইনি লড়াইয়ের পথে স্ত্রী পুনীতা

কানপুরের আলোচিত ওষুধ ব্যবসায়ী ভিনিত মিনিচা হত্যা মামলায় নতুন মোড় সামনে এসেছে। স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এবং এই মামলায় একমাত্র ছেলে সুব্রত মিনিচা জেলবন্দি থাকার কারণে এখন গোটা ব্যবসা ও পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়েছে স্ত্রী পুনীতা মিনিচার কাঁধে। ব্যবসা সচল রাখতে এবং জরুরি প্রশাসনিক ও আইনি কাজগুলো নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে তিনি এবার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) আদালতে একটি বিশেষ আবেদনপত্র দাখিল করে জেলবন্দি ছেলের কাছ থেকে ‘জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ বা জিপিএ निष्पादিত করার আনুষ্ঠানিক আইনি অনুমতি চেয়েছেন তিনি।
আইনি সূত্রে জানা গেছে, ভিনিত মিনিচার উইল বা শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠিত ওষুধ ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট ফার্মে তাঁর স্ত্রী পুনীতা মিনিচার ৭০ শতাংশ এবং ছেলে সুব্রত মিনিচার ৩০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ছেলে কারাগারে থাকায় ব্যবসার দৈনন্দিন কাজকর্ম, আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং ব্যাংকিং লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও ব্যবহারিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আদালতের অনুমোদনের মাধ্যমে জিপিএ তৈরি করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে চাইছেন পুনীতা দেবী। গত বুধবার এই মামলার শুনানির কথা থাকলেও আইনজীবীদের বিচারিক কাজ থেকে বিরত থাকার কারণে শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, খুব শীঘ্রই এই গুরুত্বপূর্ণ আর্জির ওপর শুনানি হবে এবং আদালতের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ওপরই ব্যবসার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর কানপুরের ইন্দিরা নগর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ওষুধ ব্যবসায়ী ভিনিত মিনিচার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের নিজের ছেলেই বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। চোখের সামনে স্বামীর নৃশংস মৃত্যু এবং অন্যদিকে অপরাধের অভিযোগে ছেলের কারাবাসের পর একজন মায়ের কাছে পারিবারিক শোকের পাশাপাশি বিশাল এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আদালতের পরবর্তী রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে, যা এই ভেঙে পড়া ব্যবসাকে নতুন গতি দিতে পারে।