‘এখন নতুন জিনিস করতেও ভয় লাগছে!’ চিংড়িহাটা কাণ্ডের পর সাফাই দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য অগ্নিমিত্রার

শহরকে সুন্দর করে তোলার প্রচেষ্টায় প্রতিনিয়ত নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ইতিমধ্যেই কলকাতার বিভিন্ন বড় বড় রাস্তার সৌন্দর্যবর্ধন ও রঙের কাজ করা হয়েছে। আর এবার শহরকে আরও আকর্ষণীয় করে সাজাতে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কের জেরে তাঁর গলায় শোনা গেল আশঙ্কাও। সম্প্রতি চিংড়িহাটা ব্রিজে কয়েকটি বাইক স্কিড করে পড়ার ঘটনায় বিরোধীরা রাস্তায় রং করা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানায়। সেই প্রসঙ্গেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ খুলেছেন মন্ত্রী।

নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ব্রিজের নিচের অব্যবহৃত জায়গাগুলিতে দুপাশে জাল বা নেট দিয়ে ঘিরে দিয়ে সেখানে খেলাধুলার উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। সেখানে টেবিল টেনিস কোর্ট অথবা ক্যারাম খেলার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেমনটা ইতিমধ্যেই গড়িয়াহাটের ব্রিজের নিচে দাবা খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠ বা ফাঁকা জায়গাগুলি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করার ফলে যেমন একদিকে পরিকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, তেমনই শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এই সমস্যা দূর করতে বড় বড় কোম্পানির কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বা CSR ফান্ড ব্যবহার করে কলকাতা, হাওড়া এবং শিলিগুড়ির বিভিন্ন অঞ্চলের অবহেলিত মাঠ ও ব্রিজের নিচের জায়গাগুলির সৌন্দর্যায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট মাঠগুলির একটি তালিকাও তৈরি করে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে চিংড়িহাটা ব্রিজে বাইক স্কিড করার ঘটনা ও তা নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনার তীব্র জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাইকের চাকা স্কিড তো বিভিন্ন কারণে হতে পারে। হাইওয়ে থেকে ফেরার পথে অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, যেখানে কোনো রং থাকে না। সুতরাং, শুধুমাত্র রং করার জন্যই গাড়ি স্কিড করেছে—এমনটা ভেবে নেওয়া সম্পূর্ণ ভুল। ঘটনার পরেই প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সমগ্র বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের ভালো লাগার জন্যই শহরকে সাজিয়ে তোলার এই প্রয়াস চালানো হচ্ছে। বিগত ১৫ বছরের বাম বা অন্যান্য শাসনে যে কাজ হয়নি, মানুষ তা দেখেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা পানীয় জল সরবরাহ এবং জঞ্জাল পরিষ্কারের পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্যবর্ধন করাও তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি দাবি করেন, এই সৌন্দর্যায়নের কাজে কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি বা কারও কাছ থেকে জোর করে টাকা তোলা হয়নি। সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই তাঁরা কাজ করছেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি ও ভয়ের কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *