CJP-Congress বরফ গলল? কোন বিরাট সমীকরণের ইঙ্গিত দিল কংগ্রেস?

রাজনীতিতে নাকি চিরশত্রু বা চিরমিত্র বলে কিছু হয় না— এই প্রচলিত বাক্যই যেন ফের একবার সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছে জাতীয় রাজনীতিতে। প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে এসআইআর প্রক্রিয়া— বিগত কয়েক মাসে একাধিক জাতীয় ইস্যুতে কংগ্রেস এবং ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) অবস্থান একই থাকলেও, দুই শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব এতদিন এক মঞ্চে আসা তো দূরের কথা, যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখছিলেন। তবে বুধবার যন্তর মন্তরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার পর হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করেছে সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণ।

ঘটনার সূত্রপাত কোথায়? শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং যন্তর মন্তরে জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে গ্রেপ্তার করে তিহাড় জেলে পাঠায় পুলিশ। আর এই গ্রেফতারির পরেই প্রকাশ্যে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে সরব হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যদিও সরাসরি দলের নাম তিনি নেননি, তবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (টুইটার) একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়ে রাহুল লেখেন, “যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তেরঙা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো প্রকৃতপক্ষে চরম কাপুরুষতার পরিচয়।”

ধন্যবাদ দীপকের, পাল্টা সৌজন্যের বার্তা: কংগ্রেস নেতার এই বার্তা পোস্ট হওয়ার পরপরই তাঁকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এতদিন সোশ্যাল মিডিয়াতেও দুই দলের মধ্যে যে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় ছিল, সেখানে প্রকাশ্যে এহেন সৌজন্য বিনিময় অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনার পরেই দীপকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান যে, ‘ইন্ডি’ (INDIA) ব্লকের আন্দোলনের প্রতি তাঁদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

কেন এতদিন দূরত্ব বজায় রেখেছিল কংগ্রেস? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই পদক্ষেপ কংগ্রেসের মূল অবস্থানের ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন। এতদিন সিজেপি-র যে কোনও কর্মসূচি থেকে কংগ্রেস নিজেদের সতর্কভাবে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক আশঙ্কা—

  • ‘আপ’-এর বি-টিম হওয়ার সন্দেহ: সিজেপি-র একাধিক শীর্ষ নেতা অতীতে আম আদমি পার্টির (AAP) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দিল্লি ও পঞ্জাবে আপের উত্থানের ফলে কংগ্রেসের যে ভোটব্যাঙ্ক ধাক্কা খেয়েছিল, তা মাথায় রেখে সিজেপি-কেও একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের পর ভরসা করতে পারছিল না হস্ত শিবির।

  • ভোটব্যাঙ্ক ও কৃতিত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার ভয়: তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা পাছে কংগ্রেসের হাত ছেড়ে সিজেপি-র দিকে ঝুঁকে পড়ে, সেই আশঙ্কাও তাড়া করছিল শীর্ষ নেতৃত্বকে। পাশাপাশি কংগ্রেস যে সমস্ত ইস্যু তুলে আনছিল, সিজেপি সেগুলি নিজেদের কর্মসূচি বানিয়ে রাজনৈতিক সুযোগ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেসের মুখপাত্ররা।

বরফ গলার ইঙ্গিত? জুলাই মাসে সিজেপি-র একটানা এক মাসের ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর যখন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়, তখনই তরুণ প্রজন্মের ওপর এই নতুন দলটির প্রভাব পরিষ্কার হয়ে যায়। এই আন্দোলনকে দেখে রাহুল গান্ধী নিজেও ‘জেন-জি’ (Gen-Z) ও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ বাড়াতে শুরু করেছিলেন।

তবে সম্প্রতি তিহাড়ে দুই সিজেপি নেতার কারাবাসের ঘটনায় রাহুল যেভাবে সরব হলেন এবং বিনিময়ে দীপকে যেভাবে সৌজন্য দেখালেন, তাতে জল্পনা তুঙ্গে— তবে কি দিল্লির রাজপথে আগামী দিনে একসঙ্গেই সোচ্চার হতে দেখা যাবে রাহুল গান্ধী ও সিজেপি নেতৃত্বকে? নজর রাখছে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *