২৪৭ রান করেও হাতছাড়া ম্যাচ! ভারতের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে সিরিজে জমজমাট সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক রোমহর্ষক লড়াইয়ে ২৪ রানে পরাজয় স্বীকার করতে হলো টিম ইন্ডিয়াকে। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে স্কোরলাইন এখন ২-২ সমতায় এসে ঠেকলো। এদিনের ম্যাচে ব্যাট এবং বল—উভয় বিভাগেই দারুণ আধিপত্য বিস্তার করে ক্যারিবিয়ান ব্রিগেড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে বিশাল ২৪৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে এগোয় ভারত। মাত্র ১২ ওভারের মধ্যেই ১৩০ রান বোর্ডে তুলে ফেললেও এই সময়ের মধ্যে পরপর ৫টি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় ভারতীয় দল। তবে সেখান থেকে তরুণ ব্যাটার তিলক বর্মা এবং নীতীশ রেড্ডি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং ভারতকে লড়াইয়ের পালে হাওয়া জোগাতে থাকেন।
ম্যাচের একটা সময় জয়ের সমীকরণ যখন ১৯ বলে ৪৮ রানে এসে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে তিলক বর্মার উইকেট পতনের পরেই ভারতের জয়ের আশা বড় ধাক্কা খায়। ম্যাচ হেরে দলের এই বিপর্যয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভারতীয় দলের তারকা ওপেনার সঞ্জু স্যামসন নিজের হতাশা প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে স্যামসন স্পষ্ট জানান যে, দলের মিডল অর্ডারে তিলক বর্মার উইকেট হারানোই তাঁদের সবচেয়ে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
স্যামসন বলেন, “তিলক যেভাবে খেলছিল, তাতে আমরা ওভার প্রতি ১০ থেকে ১২ রান তুলে খুব সহজ পথেই জয়ের দিকে এগোচ্ছিলাম। দলের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামার পর যেভাবে তিলক এবং নীতীশ চরম চাপের মুখে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ম্যাচটাকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ওই মুহূর্ত পর্যন্ত আমার মনে হচ্ছিল ম্যাচটা সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। ৫ উইকেট হারানোর পরেও যেভাবে দুই তরুণ ক্রিকেটার চাপ কাটিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছে, তা অবিশ্বাস্য।”
এদিনের ম্যাচে মাত্র ২৩ বলে ৫৬ রানের একটি দুর্দান্ত ও ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন সঞ্জু স্যামসন। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি হলেও দল জয়ী না হওয়ায় তাঁর মনের ভেতরে ক্ষোভ ও আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনি যতই ভালো খেলুন না কেন, দিনশেষে আপনার দল যদি ম্যাচ হেরে যায়, তবে সেই পারফরম্যান্সের আর কোনো মূল্য থাকে না। তাই এই মুহূর্তে আমি কিছুটা হতাশ। আমি অবশ্যই চেয়েছিলাম জয়ী দলের অংশ হতে। তবে এত বড় রান তাড়া করার সময় দ্বিধা করার কোনো অবকাশ থাকে না। কেবল নিজের সাহসিকতা এবং পাওয়ার হিটিং দক্ষতার ওপর ভরসা রাখতে হয়, আমি ঠিক সেটাই করেছি। নিজের ইনিংসটি আমি দারুণভাবে উপভোগ করেছি, কিন্তু দিনশেষে দলকে জয় এনে দিতে পারলে আমার আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যেত।”
ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণ এবং জসপ্রীত বুমরাহর অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্যামসন জানান, দলের পেস আক্রমণে বুমরাহর মতো বোলারের অভাব সব সময়ই অনুভূত হয়। তাঁর মতে, জসপ্রীত বুমরাহের কোনো বিকল্প এই মুহূর্তে বিশ্বে নেই। এমন প্রতিভারা শতাব্দীতে একবারই জন্মায় এবং তাঁকে দলে পাওয়া যেকোনো অধিনায়কের জন্যই পরম ভাগ্যের ব্যাপার। তবে একই সঙ্গে তিনি তরুণ প্রতিভাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন যে, দলে এই মুহূর্তে বেশ কিছু উজ্জ্বল এবং অসাধারণ তরুণ প্রতিভা উঠে আসছে। অর্শদীপ সিং দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং গত কয়েকটি ম্যাচে প্রিন্স যাদব যেভাবে নিজের বোলিং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তরুণ এই প্রতিভাগুলোর ওপর আস্থা রেখে তাঁদের যত বেশি সুযোগ দেওয়া হবে, দল হিসেবে ভারত ভবিষ্যতে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেই মত তাঁর।