স্ত্রীর সঙ্গে নিত্যদিনের অশান্তি! ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু যুবকের

স্ত্রীর সঙ্গে নিত্যদিনের অশান্তি এবং পারিবারিক ঝামেলার হাত থেকে রেহাই পেতে গিয়ে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক অঘটন। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার একটি অভিজাত আবাসনে ২২ তলার ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক যুবকের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই যুবকের নাম হর্ষিত লাভানিয়া, বয়স ৩১ বছর। দাম্পত্য কলহের জেরে গত ছয় মাস ধরে তিনি পরিবারের থেকে আলাদা ওই ভাড়া ফ্ল্যাটেই বসবাস করছিলেন।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে হর্ষিত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায় প্রতিদিন নানা বিষয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। এই পারিবারিক অশান্তি এবং মানসিক চাপ এড়ানোর জন্যই তিনি আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন। ঘটনার দিন হঠাৎই তাঁর স্ত্রী ওই ফ্ল্যাটে এসে উপস্থিত হন। ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিয়ে তিনি ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজা বন্ধ থাকায় এবং স্ত্রীর মুখোমুখি হতে না চাওয়ায় হর্ষিত প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কারণ তিনি কোনোভাবেই আর নতুন করে সেই অশান্তির মুখোমুখি হতে চাননি।
ভয়ে দরজা খোলেননি হর্ষিত। এদিকে বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁর স্ত্রী বারবার দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন এবং সিকিউরিটি গার্ডকেও ডেকে পাঠানোর কথা বলেন। স্ত্রীর নাগাল থেকে বাঁচতে এবং দরজা বন্ধ অবস্থাতেই ফ্ল্যাটের ব্যালকনি দিয়ে নিচে নামার এক বিপজ্জনক চেষ্টা শুরু করেন ওই যুবক। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে বিপত্তি। ব্যালকনি থেকে নামার সময় হঠাৎই তাঁর পা পিছলে যায় এবং তিনি সজোরে ২২ তলা থেকে সোজা নিচে মাটিতে আছড়ে পড়েন।
শব্দ শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে রয়েছেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে এই দাম্পত্য কলহের কারণে হর্ষিত মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। যদিও এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবুও পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।