‘মমতাকে কোনও পুজোতেই ডাকা হয়নি!’ দুর্গাপুজো নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জড়িয়ে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য

দুর্গাপুজো বাংলার শুধু সবচেয়ে বড় উৎসব নয়, বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির মূল চালিকাশক্তি। তবে এবার সেই দুর্গাপুজো পালিত হচ্ছে সম্পূর্ণ এক নতুন আবহাওয়ায়—’পরিবর্তনের পুজো’ হিসেবে। রাজ্য সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা এবং নজিরবিহীন প্রশাসনিক উদ্যোগের কারণে এবারের উৎসবের রূপটাই একদম বদলে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সরকারের নেওয়া ঐতিহাসিক সমস্ত পদক্ষেপ এবং অনুদান বৃদ্ধির খতিয়ান তুলে ধরে তিনি রাজ্যবাসীকে উৎসবে মেতে ওঠার আহ্বান জানান।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “এবারের দুর্গাপুজো আসলে পরিবর্তনের পুজো হিসেবেই পালিত হচ্ছে। এর জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ঐতিহাসিক সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজো উদ্যোক্তাদের পাশে যেভাবে সরকার এসে দাঁড়িয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। আগের সরকার মাত্র ৪৫ হাজার পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দিত। কিন্তু এবার তা বাড়িয়ে একলাফে ৫৮ হাজার পুজো কমিটিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। শহরের পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামের মানুষের মধ্যেও এই অনুদান ঘিরে দারুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বলতে গেলে, রাজ্য সরকার নিজেই একটা উৎসবের স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গাপুজো সংক্রান্ত সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বেশ কিছুটা আক্রমণাত্মক সুরও গ্রহণ করেন। বিদেয়ী মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি কটাক্ষের সুরে মন্তব্য করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তো এবার কোনও পুজো মণ্ডপেই বিশেষ ডাকা হয়নি! তবে সার্বজনীন উৎসবে দলমত নির্বিশেষে সবারই আনন্দ করা উচিত। আমি মনে করি, ওঁরও সমস্ত রাগ-ক্ষোভ ভুলে পুজোয় অংশ নেওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ বর্তমানে খুবই খুশি। উৎসবের মরশুমে রাজ্যজুড়ে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাতে দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে দুর্গাপুজোই কেন বাংলার বুকে সবচেয়ে বড় উৎসবের মর্যাদা পায়।”
অন্যদিক, কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে দুর্গাপুজোর আমেজ ইতিমধ্যেই চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছে। তৃতীয়া-চতুর্থী থেকেই তিলোত্তমার বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও মেগা বাজেটের পুজো মণ্ডপ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। অন্য সব মণ্ডপকে ছাপিয়ে গিয়ে মানুষের মনে স্থান করে নিতে উদ্যোক্তারা এবারও নিত্যনতুন ও ব্যতিক্রমী থিমের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রাচীন শিল্প, সংস্কৃতি, সামাজিক বার্তা এবং সমসাময়িক ভাবনার এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে প্রতিটা প্যান্ডেলে।
বিশেষ করে নজর কেড়েছে আহিরীটোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তিলোত্তমা তথা পুরো বাংলা তার সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় মিষ্টির জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছে। উৎসবের দিনে বাঙালির মিষ্টিমুখের ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে আহিরীটোলা সর্বজনীন তাদের মণ্ডপসজ্জায় বাংলার মিষ্টির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে। গোটা রাজ্য জুড়েই এমন দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ গড়ে তুলে দুর্গাপুজো উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে বিশ্বমানের সৃজনশীলতার মাধ্যমে বাঙালির নিজস্ব প্রথা ও স্থানীয় পরিচিতিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।