‘বিদেশি নাগরিক’ হয়েও কেন CJP-র বিক্ষোভে? আমিরের ভাগ্নে ইমরানকে নোটিস ধরাল পুলিশ

ভোট চুরির অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশ। আর এই রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিয়েই বড় বিপাকে পড়লেন অভিনেতা তথা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খান। মুম্বই পুলিশের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ও বান্ধবী লেখা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান খান ও লেখা ওয়াশিংটন। সেই সময় পুলিশ তাঁদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে এবং পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এড়ানো যায়নি।

পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও দেশের একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় (২২৩, ১২৬(২), ১৮৯(২), ১৮৯(৩) ও ১৮৯(৫)) মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশি নির্দেশ অমান্য ও বেআইনি জমায়েতের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। একাধিক বিজেপি নেতা-নেত্রী অভিনেতাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার জোরালো দাবি তুলেছিলেন। যদিও ইমরান খানের নাগরিকত্ব নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে (তিনি মার্কিন নাগরিক কি না), সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য মেলেনি। পাশাপাশি, মুম্বই পুলিশের পাঠানো এই নোটিসের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিনেতা বা তাঁর আইনি প্রতিনিধিদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে প্রায় চারশো জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছিল মুম্বই পুলিশ। একের পর এক হেভিওয়েট নাম এই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এখন দেখার, মুম্বই পুলিশের এই কড়া নোটিসের পর অভিনেতা পরবর্তী কী পদক্ষেপ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *