হোয়াইট হাউসে প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়েই চরম বিপাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া!

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া তাঁর অভিষেক সংবাদ সম্মেলন করেই বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছেন। হোয়াইট হাউসে নিজের দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই ১৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিতে গিয়ে বড়সড় স্লিপ অফ টাং (Slip of tongue) করে বসেন তিনি। একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় কথা বলতে গিয়ে হোঁচট খান কেটি এবং অসাবধানতাবশত মার্কিন ‘প্রেসিডেন্ট’-এর পরিবর্তে ট্রাম্পকে তাঁর ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করে বসেন। তাঁর এই মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া ভুলের একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তবে এই বিব্রতকর পরিস্থিতি সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোদ সংবাদমাধ্যমের সামনে কেটির উপস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে তাঁর প্রথম প্রেস ব্রিফিংটি চমৎকার হয়েছে।
মাত্র ২৯ বছর বয়সী ক্যারোলিন ল্যাভিটের সাম্প্রতিক পদত্যাগের পর ৪১ বছর বয়সী কেটি জাকারিয়াকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া কেটি পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি কেবল টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপিকা হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী টেলর জাকারিয়া একজন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র প্রযোজক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে জোরালো প্রচার চালানোর সুবাদে কেটিকে ট্রাম্প শিবিরের একজন কট্টর ও বিশ্বস্ত সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের আগস্ট থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত তিনি বেইজিংয়ের ঝং লুন ল-এর আন্তর্জাতিক অনুশীলন দলে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র রিক গ্রেনেলের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘ফিক্স ক্যালিফোর্নিয়া’-র জেনারেল কাউন্সেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে যোগ দেওয়ার ঠিক আগে তিনি ‘ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ’-এর সিনিয়র কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার পদে কর্মরত ছিলেন।
তবে কেটি জাকারিয়াকে ঘিরে বিতর্ক কেবল তাঁর ওই স্লিপ অফ টাং-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ প্রথা অনুযায়ী হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে মাসিক সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ৪৫ মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় এবং যথাসম্ভব বিস্তারিত উত্তর দিতে হয়। কিন্তু কেটি মাত্র তিনজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিয়েই সংবাদ সম্মেলন অসমাপ্ত রেখেই দ্রুত শেষ করে দেন। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা বা নীতিনির্ধারক প্রথমদিকে কেটিকে সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে পাঠাতে একেবারেই ইচ্ছুক ছিলেন না, কিন্তু খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জোরাজুরিতেই তাঁকে এই দায়িত্বে পাঠানো হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইন ডিগ্রি নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বার অ্যাসোসিয়েশন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে পেশাদার আইনজীবী হিসেবে রাজ্যের সাথে কেটির কোনো সক্রিয় বা প্রত্যক্ষ পেশাদার সংযোগ নেই। হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও এখন স্বীকার করছেন যে কেটি কেবল আইনি বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনোদিন আইন পেশার প্র্যাকটিস বা চর্চা করেননি। সবমিলিয়ে, অভিষেকেই এমন অপ্রত্যাশিত বিতর্ক ও কাণ্ডকারখানার জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন মুখকে ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল ও সমালোচনার ঝড় বইছে।