গলায় কি থাইরয়েড বাসা বেঁধেছে? ওষুধ ছাড়াও এই জাদুকরী খাবারগুলি খেলেই বশে আসবে হরমোন!

বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়ার জেরে থাইরয়েডের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে এই হরমোনজনিত জটিলতা আজকাল মারাত্মকভাবে বেড়েই চলেছে। শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চুল পড়া থেকে শুরু করে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। সারাজীবন ওষুধ খেয়ে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলেও, পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা অনেকটাই বাগে রাখা সম্ভব।
থাইরয়েডের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে কোন খাবারগুলি জাদুর মতো কাজ করতে পারে, একনজরে দেখে নিন সেগুলি:
আয়োডিনযুক্ত খাবার: থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। তাই খাবারে পরিমিত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত নুন বা সামুদ্রিক মাছ রাখা জরুরি।
সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (ডিম ও কাজুবাদাম): সেলেনিয়াম থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা সচল রাখতে সাহায্য করে। ডিম, ব্রাজিল নাট বা কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম থাকে যা থাইরয়েডের রোগীদের জন্য দারুণ উপকারী।
দই ও প্রোবায়োটিক খাবার: পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে হরমোনের ভারসাম্যও বজায় থাকে। তাই ডায়েটে টক দই বা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত রাখা উচিত।
আদ চা বা আদার রস: থাইরয়েডের সমস্যায় প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমাতে আদা দারুণ কাজ করে। এক কাপ হালকা আদা চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বেরি জাতীয় ফল: স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি কিংবা আমলকীর মতো ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর ফলগুলি থাইরয়েড গ্রন্থিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি নিয়ম করে এই পুষ্টিকর খাবারগুলি ডায়েটে জায়গা করে দিলে থাইরয়েডের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।