নির্বাচন কমিশনারদের আর কোনো ‘আইনি ছাড়’ নয়? কেন্দ্রীয় সরকার ও কমিশনের বিরাট ধাক্কা, রায় বদলে দোল দেবে সুপ্রিম কোর্ট?

সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব পালনকালীন কাজের জন্য দেওয়া আজীবন আইনি সুরক্ষাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি পিটিশনে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিইসি এবং ইসি আইন ২০২৩-এর ১৬ নম্বর ধারায় ঠিক কী বলা রয়েছে?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিইসি ও ইসি আইন, ২০২৩-এর ১৬ ধারা। এই ধারা অনুসারে, কোনো ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার পদে বহাল থাকাকালীন কিংবা কার্যকালের পরে, নিজের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হতে পারবেন না। এমনকি আদালতও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নিতে পারবে না।
কেন এই ধারা বাতিলের দাবি?
পিটিশনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই ১৬ ধারাটি ভারতের সংবিধানের ১৪ (সাম্যের অধিকার) এবং ২১ (জীবনের অধিকার) অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। এডিআর অভিযোগ করেছে, ২০২৩ সালে যখন বিপুল সংখ্যক বিরোধী সাংসদকে সংসদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল, ঠিক তখনই কোনো সুস্থ আলোচনা বা বিতর্ক ছাড়াই একটি সরকারি সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিতর্কিত ধারাটি বিলে যুক্ত ও পাস করানো হয়।
আইনজীবী সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বনাম সিবিআই মামলার উদাহরণ টেনে আবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৯৫০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কোনো কমিশনের জন্য এ জাতীয় আজীবন আইনি ছাড়ের প্রয়োজন পড়েনি। আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, ১৬ নম্বর ধারাটিকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করার পাশাপাশি আইনটি পাস হওয়ার পর থেকে বর্তমান ও প্রাক্তন কমিশনারদের বিরুদ্ধে যেসব আইনি অভিযোগ জমে রয়েছে, সেগুলি পুনরায় চালু করা হোক।