সঙ্গী কি কেবল নিজের স্বার্থেই ব্যবহার করছেন আপনাকে? রিলেশনশিপে ‘ইউজড’ হওয়ার এই ৬টি লক্ষণ চিনতে পারছেন কি?

একটি সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্মান এবং সমতা। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, সম্পর্কে থাকার পরেও একজন মানুষ অপর জনের সমস্ত আবেগ, সময় ও শ্রমকে কেবল নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে চলেছেন। অথচ যার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন, তিনি হয়তো বুঝতেই পারছেন না যে তিনি মানসিকভাবে বা সামাজিকভাবে ব্যবহৃত বা ‘ইউজড’ (Used) হচ্ছেন।
মনোবিদ ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার আগে বা চলার পথে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ পরিষ্কার বুঝিয়ে দেয় যে সঙ্গীর কাছে আপনার গুরুত্ব ঠিক কতখানি। আপনিও কি এমন কোনো সম্পর্কে রয়েছেন? একনজরে জেনে নিন সেই ৬টি লক্ষণ, যা দেখলে সাবধান হওয়া জরুরি:
কেবল নিজের প্রয়োজনে যোগাযোগ: আপনার সঙ্গী কি কেবল তখনই আপনার সঙ্গে মিষ্টি কথা বলেন বা যোগাযোগ করেন, যখন তাঁর নিজের কোনো কাজ বা স্বার্থ থাকে? আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতি, কষ্ট বা আনন্দ তাঁর কাছে যদি সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন হয়, তবে বুঝতে হবে আপনি কেবল নিজের প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হচ্ছেন।
আপনার মতামত ও অনুভূতির কদর না থাকা: যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল তাঁর পছন্দ-অপছন্দই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়? আপনার মতামত বা ইচ্ছের সেখানে কোনো দামই নেই? এটি একটি toksik বা অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের স্পষ্ট লক্ষণ।
সারাক্ষণ একপেশে সমর্থন ও ত্যাগ: সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনিই কেবল বারবার ছাড় দিচ্ছেন, কষ্ট সহ্য করছেন এবং সব পরিস্থিতিতে সঙ্গীকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন; কিন্তু বিপদের দিনে তাঁকে পাশে পাচ্ছেন না—এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অবিলম্বে সতর্ক হন।
আপনাকে বন্ধুদের বা পরিবারের থেকে আলাদা রাখা: আপনার সঙ্গী কি সচেতনভাবে আপনাকে তাঁর নিজস্ব বন্ধু মহল, পরিবার বা সামাজিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন? সবার সামনে আপনাকে ছোট করতেও তাঁর বাঁধতে না, তবে বুঝবেন সম্পর্কের সমীকরণ ভীষণ একপেশে।
আপনার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়া: যিনি আপনাকে ভালোবাসেন, তিনি সবসময় আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবেন। কিন্তু সঙ্গী যদি প্রতিনিয়ত আপনার কাজের সমালোচনা করেন, আপনাকে অবমূল্যায়ন করেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগান, তবে তা মানসিক শোষণের সমান।
সবকিছুই শর্তসাপেক্ষ: সম্পর্কে ভালোবাসার চেয়ে যদি হিসাব-নিকাশ বেশি থাকে—যেমন আজ আমি উপকার করেছি তাই তোমাকেও করতে হবে—তবে সেই সম্পর্ক কোনোভাবেই সুস্থ নয়।
সম্পর্ক মানে একে অপরের পরিপূরক হওয়া, কোনো অদৃশ্য খাঁচায় বন্দি থাকা বা অন্যের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হওয়া নয়। তাই সময় থাকতেই সচেতন হোন এবং নিজের আত্মসম্মানকে সবার আগে প্রাধান্য দিন।